দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর মোবাইল ফোনের বাজারে ক্লোন ও নকল ডিভাইসের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘দেশে লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন, যেগুলোর রেডিয়েশন টেস্ট বা স্পেসিফিক অ্যাবজরপশন রেট (SAR)সহ কোনো ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা কখনোই হয়নি। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব ডিভাইস ব্যাপকভাবে সচল রয়েছে। এসব ফোন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ না করে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে বলে জানান তিনি।
পোস্টে শীর্ষ ডুপ্লিকেট আইএমইআইয়ের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি আইএমইআই নম্বরেই ১০ লাখের বেশি ডিভাইস সচল রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪০০১৫২০২০০০ আইএমইআই নম্বরে প্রায় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ডিভাইস, ৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪ নম্বরে প্রায় ১৭ লাখ ৫৮ হাজার এবং ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ নম্বরে সোয়া ১৫ লাখ ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া ‘০’ আইএমইআই নম্বরেই রয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ডিভাইস।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরো কয়েক লাখ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চুরি হওয়া এসব ফোনের অধিকাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আনঅফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে নকল ও ক্লোন ফোন বিক্রির যে নজিরবিহীন প্রতারণা চলছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
