বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। সেই ড্রয়ের পরই ‘আই’ গ্রুপ নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। ফ্রান্স, সেনেগাল এবং নরওয়ের মতো দল যে গ্রুপে আছে সেই গ্রুপ নিয়ে আলোচনা হতেই হবে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’ নাম দিয়ে দেন এটাকে। পাশাপাশি ‘এল’ গ্রুপও এই তকমা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার কারণে। আজ ‘আই’ গ্রুপ নিয়ে আলোচনা। মৃত্যুকূপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কি ফেবারিট ফ্রান্স?
ফরাসিরা ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে আসে এশিয়ার মাটিতে। সেবার স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে সেনেগাল। নবাগত দলটিকে নিয়ে তেমন কেউ মাথা ঘামায়নি। তবে একসময় ফ্রান্সের অধীনে থাকা দেশটি সবাইকে চমকে দেয়। থিয়েরি অঁরি, জিনেদিন জিদানদের নিয়ে গড়া দুরন্ত ফ্রান্স হেরে যায় সেনেগালের কাছে। অবশ্য সেই ম্যাচে ইনজুরির কারণে জিদান মাঠে নামেননি। তারপরও ফ্রান্স ছিল ভয়ংকর এক দল। সেই দলকে হারিয়েই গ্রুপ পর্বের বাধা পাড়ি দিয়েছিল সেনেগাল। বিদায় করেছিল ফ্রান্সকে। সেই সেনেগাল বর্তমানে আরও ভয়ংকর। সাদিও মানে, কালিদু কুলিবেলিরা তারকা ফুটবলার। এ ছাড়া বায়ার্ন, পিএসজি, টটেনহ্যাম, মোনাকো, চেলসি, এভারটনের মতো দলে সেনেগালের এক ঝাঁক ফুটবলার সুনাম কুড়াচ্ছেন নিয়মিত। এই দল এবারও ফরাসিদের গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। কেবল সেনেগালই তো নয়, ‘আই’ গ্রুপে আছে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা আরলিং হলান্ডের দল নরওয়ে।
আরলিং হলান্ড ২০১৭ সালে ১৬ বছর বয়সে মলদের জার্সিতে সিনিয়র লেভেলে ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি নিজেকে গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন। ২০১৯ সালে ১৯ বছর বয়সে নরওয়ের জাতীয় দলে অভিষেক হয় হলান্ডের। গত সাড়ে ছয় বছরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাত্র ৪৯ ম্যাচ খেলে ৫৫ গোল করেছেন তিনি। অতীতের সব রেকর্ড একে একে ভেঙে দিচ্ছেন এই তারকা। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছেন হলান্ড। নিশ্চয়ই স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন এ টুর্নামেন্ট। হলান্ডের কারণেই নরওয়ে অনেক বড় দল, তা নয়। এই দলে আর্সেনালের মার্টিন ওডেগার্ড, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার, বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জুলিয়ান রেয়ারসনও আছেন। প্রত্যেকেই নিজেদের স্থানে বর্তমানের সেরাদের তালিকায় আছেন। নরওয়েকে নিয়েও তো ভয় কম নয় ‘আই’ গ্রুপের অন্য দলগুলোর। বিশেষ করে ফ্রান্সের। গত দুবার ফাইনাল খেলেছে ফরাসিরা। টানা তৃতীয়বার ফাইনাল খেলার জার্মান ও ব্রাজিলিয়ান রেকর্ডটা স্পর্শ করতে পারে ফ্রান্স। কিন্তু গ্রুপ পর্বে কঠিন বাধাগুলো দূর করতে পারবেন কি কিলিয়ান এমবাপ্পেরা?
একসময় ফুটবল দুনিয়ায় মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বর্তমানে তেমন দ্বৈরথ না থাকলেও এমবাপ্পে-হলান্ডের মধ্যেও চলে নীরব যুদ্ধ। দুজনের সমর্থকও কম নয়। গোলের লড়াইয়ে দুজন দুজনকে বরাবরই ছাড়িয়ে যেতে চান। বিশ্বকাপেও এই লড়াইটা এবার দেখা যাবে নিশ্চয়ই! আরও একটা তথ্য মনে রাখতে হবে। এই গ্রুপে ইরাকও আছে। গত পরশু ইরাক ১-১ গোলে ড্র করেছে স্পেনের সঙ্গে। এশিয়ার এই দলও ‘আই’ গ্রুপে বিপদ বাড়াতে পারে ফ্রান্সের!
