নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে গিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে। বেশ কয়েক দফা মিটিং করার পরও বিসিবির সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি আইসিসি।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের আসর থেকে বাংলাদেশকে বাদই করে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে কপাল খুলেছে স্কটল্যান্ডের। আইসিসি ঘোষণা করেছে, টাইগারদের জায়গায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড।
এমন অবস্থায় গুঞ্জন উঠেছে আইসিসির এলিট প্যানেলের বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত নাকি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সৈকত ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন-এমন কথাই ঘুরছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে।
তবে এই গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন খোদ সৈকত নিজেই। গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে তিনি কোথাও কোনো মন্তব্য করেননি।
সৈকতের ভাষ্য, সারা দিন ধরে দেখছি, এখানে-ওখানে বলা হচ্ছে আমি নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করছি। বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা। আমি আইসিসির এলিট প্যানেলের একজন আম্পায়ার এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সেই দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্বকাপ কাভার করতে যাচ্ছি।
তিনি জানান, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বরং কয়েক মাস আগেই আইসিসির নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে তার অ্যাসাইনমেন্ট। ফলে এখন সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগও নেই।
বাংলাদেশ দলের না থাকা নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও পেশাগত দায়িত্বই তার কাছে মুখ্য এ কথাও স্পষ্ট করেন সৈকত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল বিশ্বকাপে নেই এটা একজন বাংলাদেশি হিসেবে অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নই, আমি আইসিসির আম্পায়ার। আইসিসির নিয়ম মেনেই আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সৈকত বলেন, এসব খবরের কোনো সত্যতা নেই এবং তিনি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করতেই যাচ্ছেন।
