দিল্লির হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন আফগান সাবেক পেসার

- Advertisements -

আফগানিস্তানের সাবেক বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান বিরল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামের এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। আগামী জুলাইয়ে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া শাপুর এই রোগের চতুর্থ স্তরে ভুগছেন এবং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা, শক্তসমর্থ গড়ন আর লম্বা চুলের জন্য মাঠে একসময় আলাদা উপস্থিতি ছিল তার। কিন্তু এখন তিনি শয্যাশায়ী, গুরুতর অবস্থায় লড়াই করছেন। এই রোগে শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ তৈরি হয়, যা অতি সক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে শরীরের অস্থিমজ্জা, যকৃত, প্লীহা ও লসিকাগ্রন্থির ক্ষতি করে।

২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ (৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্ট) খেলেছেন শাপুর। তার ছোট ভাই গামাই জাদরান জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকেই অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন তিনি। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকেরা তাকে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ভারতের ভিসা দ্রুত পেতে সহায়তা করেন রশিদ খান এবং আফগান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফ। আশরাফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহের সঙ্গে কথা বলেন, আর রশিদ নিজের পরিচিত মহলের মাধ্যমে সহায়তা করেন। গত ১৮ জানুয়ারি ভারতে পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি হন শাপুর।

তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাবেক সতীর্থ আসগর আফগান। কানাডা প্রবাসী ভাই গামাই ২৬ জানুয়ারি এসে তার সঙ্গে যোগ দেন।

গামাই জানান, শুরুতে তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়, এমনকি যক্ষ্মাও ধরা পড়ে এবং তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে কাছের একটি হোটেলে রাখা হয় তাকে।

কিন্তু কিছুদিন পর আবার সংক্রমণ দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে আবার ছাড়পত্র পেলেও হঠাৎ পেটের সমস্যার পর জ্বর দেখা দেয় এবং ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

গত রমজান মাসে, মার্চের শেষ দিকে অস্থিমজ্জা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, তিনি এই রোগের চতুর্থ স্তরে পৌঁছে গেছেন।

এই কঠিন সময়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট মহল তার পাশে দাঁড়িয়েছে। আসগর আফগান শুরু থেকেই তার পাশে থেকে সহায়তা করছেন। রশিদ খানও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এছাড়া আফগান দলের আরও অনেক ক্রিকেটার তার খোঁজ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদিসহ অন্য দেশের খেলোয়াড়রাও যোগাযোগ করেছেন। এমনকি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও তার সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে।

বর্তমানে শাপুর খুব কম কথা বলেন এবং বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকেন। অসুস্থতার কারণে তার ওজনও প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।

চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে বড় শাপুর দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের দায়িত্বও সামলে আসছিলেন। তার ভাই গামাই আশা প্রকাশ করেছেন, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। সাম্প্রতিক চিকিৎসায় দেওয়া ওষুধে কিছুটা ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, যা পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/kg2u
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন