বাস্তবতার সঙ্গে বিস্তর ফারাক থাকলের মেয়েদের ওপর প্রত্যাশা ছিল অনেক। অনেকে তো বাংলাদেশের মেয়েদের বিশ্বকাপেও দেখে ফেলেছিলেন। তবে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ পিটার বাটলার কখনো আশা দেখাননি, বরং বারবারই বাস্তবতা মেনে নিতে বলেছেন। চীনের পর উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় হারের পরেও শিষ্যদের সমর্থন যুগিয়েছেন। বার বার আশা দেখাচ্ছিলেন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ নিয়ে। ওই আসরের প্রস্তুতি হিসেবেই নবিরন, প্রীতি, আলপিদের সুযোগ দিয়েছেন জাতীয় দলে। কাল অস্ট্রেলিয়ার পার্থে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর প্রেস কনফারেন্সে এসে এই মেয়েদের ছেড়ে যাওয়ার কথা বললেন পিটার বাটলার।
এশিয়ান কাপের শুরুর ম্যাচে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে চীনের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ ২-০ গোলে হারলেও ঋতুপর্ণারা মন জয় করেছিল সকলের। যদিও চীনকে বুড়াদের দল আখ্যা দিয়ে বাফুফে’র নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছিলেন চীনের বেশির ভাগ ফুটবলারের বয়স বেশি। তাদের স্প্রিন্ট কম। তাই বাংলাদেশ এতো ভালো ফুটবল খেলেছে। মেয়েদের আসল লড়াই কোরিয়ার বিপক্ষে। কিরণের এমন কথায় চটেছিলেন বাটলার। নারী উইংয়ের প্রধান কর্তাকে ননসেন্সও বলেছিলেন এই বৃটিশ কোচ। এশিয়ান কাপে মেয়েদের প্রস্তুতি নিয়েও কিরণের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন বাটলার।
দীর্ঘদিন ধরেই বাটলারের সঙ্গে কিরণের একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল। গতকাল সেই লড়াইয়ের জের ধরে বাংলাদেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ দলকে সাফ ও এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করানো এই কোচ। পার্থের র্যাকটেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পিটার বাটলার বলেন, ‘আমি এখানে থাকছি না। আমি আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো।’ আগামী ১লা এপ্রিল থাইল্যান্ডে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসর নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা বাটলারের। তার আগে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। আমি সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। এরপর আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাববো। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে সাহায্য বা সাপোর্ট না পেলে আমি দায়িত্ব চালিয়ে নিতে পারছি না।’
