আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলের বিভিন্ন নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। খেলার গতি বৃদ্ধি, সময় অপচয় কমানো এবং বর্ণবাদ ও বৈষম্যবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন এসব বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা (আইএফএবি) জানিয়েছে, নতুন নিয়মগুলো আগামী মৌসুম থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এর প্রয়োগ দেখা যাবে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকলে সরাসরি বহিষ্কার
ম্যাচ চলাকালে কোনো বিরোধপূর্ণ বা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু কিংবা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তাকে সরাসরি মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হবে। বর্ণবাদী বা আপত্তিকর মন্তব্য করে পরিচয় গোপন করার প্রবণতা রোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের সময় মুখ ঢাকলে শাস্তি দেওয়া হবে না।
প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লে কঠোর শাস্তি
রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ত্যাগ করলে তাকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। একইভাবে কোনো প্রশিক্ষক বা দলের কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উৎসাহিত করলে তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
কোনো দল মাঠ ত্যাগের কারণে খেলা অসম্পূর্ণ থাকলে প্রতিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
থ্রো-ইন ও গোল-কিকে সময়সীমা
সময় নষ্ট রোধে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পাঁচ সেকেন্ড গণনা চালু করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বল খেলায় না আনলে থ্রো-ইনের অধিকার প্রতিপক্ষ পাবে। আর গোলরক্ষক নির্ধারিত সময়ে বল না খেললে প্রতিপক্ষকে কর্নারের সুযোগ দেওয়া হবে।
খেলোয়াড় পরিবর্তনে নতুন বিধান
কোনো খেলোয়াড়কে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার পর তাকে দশ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠের নিকটতম সীমারেখা দিয়ে বাইরে যেতে হবে।
নির্ধারিত সময়ে মাঠ না ছাড়লে তার স্থলাভিষিক্ত খেলোয়াড় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরবর্তী বিরতিতে রেফারির অনুমতি পাওয়ার পরই তিনি খেলায় অংশ নিতে পারবেন।
চিকিৎসার পর এক মিনিট মাঠের বাইরে
মাঠে চিকিৎসা নেওয়া কোনো খেলোয়াড়কে চিকিৎসা শেষে খেলা শুরু হওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিট মাঠের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে।
তবে গোলরক্ষকের চোট, মাথায় গুরুতর আঘাত, মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ভিএআর প্রযুক্তির পরিধি বৃদ্ধি
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর’র ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। ভুলবশত কাউকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়া হলে কিংবা ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হলে তা সংশোধন করতে এটা ব্যবহৃত হবে। আবার ভুলভাবে কোনো কর্নার কিক দেওয়া হলে, খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার আগে তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশোধন করার সুযোগ থাকছে।
ফ্রি-কিক বা কর্নার নেওয়ার আগে যদি কোনো ফরোয়ার্ড রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে ফাউল করেন, তবে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেবে এবং ফাউল প্রমাণিত হলে কার্ড ও পুনরায় কিক নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এছাড়া স্থির বল থেকে আক্রমণের আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে ফাউল করলে তা পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক পানি পানের বিরতি রাখা হবে। সাধারণত প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে এই বিরতি দেওয়া হবে।
গোলরক্ষকের চিকিৎসার সময় কৌশলগত নির্দেশনা নিষিদ্ধ
ম্যাচ চলাকালে গোলরক্ষক চিকিৎসা নিলে সেই সময় অন্য খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষকের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনা নিতে পারবেন না। তাদের মাঠের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব নিয়ম খেলার শৃঙ্খলা বাড়ানোর পাশাপাশি সময় অপচয় কমাবে এবং মাঠে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
