২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়েছে বেশ আগে। এবার তা গড়াল আদালত পর্যন্ত।
সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া টিকিটের মূল্যকে অযৌক্তিক দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের জোট ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। আজ মঙ্গলবার এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এফএসইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’
এফএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা), যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি! তুলনাটা আরো স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ২০২৪ ইউরো ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল ৯৫ ইউরো।
এমনকি ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতেও গড় টিকিটের দাম ১ হাজার ৪০৮ ডলার ধরা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে। একজন দর্শক এক ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টের ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।
আয়োজক কমিটি প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে যোজন দূরে। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম গ্ল্যামারাস’ লড়াইয়ের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। বড় দলগুলোর ম্যাচের টিকিটের ন্যূনতম দাম তো ২০০ ডলারের নিচে নামছেই না।
আবার ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত এবং তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই উধাও হয়ে যাচ্ছে।’
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব রিসেল বা পুনর্বিক্রয় সাইটে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের একটি ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! মূল দাম যেখানে ছিল ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে পুনর্বিক্রয় বাজারে দাম বেড়েছে ৪১ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় একটি টিকিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা!
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। মেক্সিকোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।
টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি, চাহিদা বেশি; তাই দামও বেশি। তার কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী ফিফা পরিবর্তনশীল দামের নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়বে বা কমবে।
তবে সমর্থকদের দাবি, এই পদ্ধতির কোনো স্বচ্ছতা নেই। এফএসই বলছে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার সময় টিকিটের দাম হুট করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে একজন সমর্থক জানতেই পারছেন না তাকে শেষ পর্যন্ত কত ডলার গুনতে হবে।
