ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই একটা সময়ে ছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের রেষারেষি আর শিরোপা জেতার উন্মাদনায় ভরপুর আসর। অন্যান্য দেশের দলগুলোর সমর্থক থাকলেও তা যেন নামমাত্র।
সেই চিত্র পালটে দিতে স্পেনের ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয় ছিল এক অন্যতম মাইলফলক। এ জয় ইউরোপের এই দেশটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে করে তোলে ব্যাপক জনপ্রিয়।
তবে সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পরে পর পর ৩ বার বিশ্বকাপে পরাজয়। শেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়ে মিশন শুরু করলেও অপ্রত্যাশিতভাবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরে ভক্ত-সমর্থকদের হতাশ করে স্পেন।
বছর ঘুরে আবার ফুটবলপ্রেমীদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এবার আসন্ন ২৩তম বিশ্বকাপে তরুণদের নিয়ে ফের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছে ২০১০ এর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের নিয়ে কঠিন অনুশীলন করে বিশ্বকাপের এই আসরে একটি শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
সেই তরুণদের কাঁধে ভর করেই এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে স্প্যানিশরা।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে স্পেনকে।
এমনকি বিশ্বকাপের মহানায়ক খোদ লিওনেল মেসিও মনে করেন, এবার লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রিদের হাতেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঠতে পারে। তার মতে, স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি মোটেও অপ্রত্যাশিত হবে না।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্পেন। ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দলটি আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। বিশ্বকাপের পুরো বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা স্পেন এবার মাঠে নামতে যাচ্ছে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
দলের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছেন। দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার আক্রমণাত্মক এবং পজেশন-ভিত্তিক খেলার শৈলী দিয়ে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হতে চলেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে স্পেন। যেখানে তাদের তিন প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে। আগামী ১৫ জুন জর্জিয়ার আটলান্টা শহরে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু কবে স্পেন।
১৯৩৪ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা স্পেন অনেক সাধনার পর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়। এ পর্যন্ত ১৭ বার বিশ্বকাপে খেলা দেশটির এটিই সর্বোচ্চ সাফল্য। ইউরোপের ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৯৬৪, ২০০৮, ২০১২ ও ২০২৪ সালে।
এদিকে, ফেভারিট বিষয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রেডিকশন মার্কেট। যেখানে বিশ্বের সেরা গণকদের ওপর ভর করে বিশ্বকাপজয়ী দলের তালিকা করা হয়েছে। যে তালিকায় সবার উপরে স্পেন। তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ড ১৫ আর তৃতীয় স্থানে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৩ শতাংশ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা সমান।
তবে এবারের আসরের শেষ হাসিটা কোন দল হাসবে তা দেখতে আপাতত অপেক্ষা করতে হবে ভক্ত-সমর্থকদের।
