২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে যুবরাজ সিংয়ের মারা ছয়টি ছক্কার স্মৃতি ক্রিকেটের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি যুবরাজকে বিশ্বব্যাপী মহাতারকায় পরিণত করলেও তরুণ ব্রডের জন্য ছিল ক্যারিয়ারের কঠিনতম পরীক্ষা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ প্রকাশ করেছেন এক চমকপ্রদ তথ্য—ব্রডের বাবা ক্রিস ব্রডের অনুরোধে যুবরাজ একটি জার্সি সই করে ব্রডকে উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষুব্ধ ব্রড সেটি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ‘স্বাভাবিক’ এবং ‘গ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন যুবরাজ।
মাইকেল ভন ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে ‘দ্য ওভারল্যাপ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় যুবরাজ জানান, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের সময় ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড তার কাছে এসে বলেছিলেন, তুমি তো আমার ছেলের ক্যারিয়ার প্রায় শেষ করে দিয়েছিলে। জবাবে যুবরাজ তাকে সমবেদনা জানিয়ে নিজের সই করা একটি জার্সি উপহার দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, আমি নিজেও এক ওভারে পাঁচটি ছক্কা খেয়েছি, তাই আমি জানি এটা কেমন লাগে। আশা করি তুমি একদিন সেরা বোলার হবে।
তবে যুবরাজ সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে, বাবার কাছ থেকে সেই জার্সি পাওয়ার পর রাগে সেটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছিলেন ব্রড। যুবরাজ বলেন, সেই সময় ওই পরিস্থিতিতে এমন রাগ হওয়া খুবই স্বাভাবিক ছিল। তবে ব্রড যে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ৬০০-র বেশি টেস্ট উইকেট নিয়ে কিংবদন্তি হয়েছেন, তাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন যুবি।
একই সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথাও স্মরণ করেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ২০১১ সালে যখন তার ক্যারিয়ার তুঙ্গে, তখন হঠাৎ করেই মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। যুবরাজ জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর তখন টেস্ট দলে তার জায়গা পাকাপোক্ত হচ্ছিল, তাই শুরুতে তিনি চিকিৎসা নিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু চিকিৎসক নিতেশ রোহতগি তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে টিউমারটি এমনভাবে রয়েছে যে কেমোথেরাপি না নিলে বড়জোর তিন থেকে ছয় মাস বাঁচবেন তিনি।
মৃত্যুর সেই পরোয়ানা শোনার পরই জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন এবং ক্রিকেটের মায়া কাটিয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিলেন ভারতের এই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
