জহিরুল ইসলাম মিশু,সিলেট ব্যুরো: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলায় ছয়টি আসনের মোট ১ হাজার ১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১০৩ টি এবং সিলেট মহানগর এলাকায় ৯৫ টি কেন্দ্র রয়েছে। পূর্বের ভোটের ইতিহাস, ভোটার সংখ্যা, কেন্দ্রের অবস্থান ও দূরত্ব বিবেচনায় এ তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।শুরুতে কেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিন ভাগে ভাগ করা হলেও পরে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একসঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা গেছে সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে সিলেট -১ আসন পুরো এলাকা এবং সিলেট -৩ আসনের আংশিক সিলেট মহানগর পুলিশের অধীনে এবং সিলেট -৩ আসনের বড় অংশসহ বাকি ৪ আসন পড়েছে সিলেট জেলা পুলিশের অধীনে। এসব আসনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ভোটের দিন পরিবেশ কেমন থাকবে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন হবে- এসব নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সিলেট মহানগরী এলাকায় ভোটের দিন নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবেলার জন্য এসএমপি পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মেট্রোপলিটন এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দিন ড্রোন উড়ানো হবে। কোথাও সংঘাত দেখলে তা দ্রুত নিবৃত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ থাকবে ও ১০ জন আনসার সদস্য ও থাকবেন। তাদের বডিঅন ক্যামেরা ও রেকর্ড ক্যামেরা দেয়া হবে। কেন্দ্রের পরিস্থিতি ভিডিও ফুটেজে ও ধারণ করবে পুলিশ। নির্বাচন চলাকালে নিয়মিত পুলিশের মোবাইল টিম টহলে থাকবে।
এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, কেউ ভোটকেন্দ্র দখল করতে চাইলে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বডিঅন ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। ভোটারদের কোন ধরনের শঙ্কার কারণ নেই, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট তালুকদার বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী দূরত্ব, ভোটার সংখ্যা ও দুর্গম এলাকার কারণে ১০৩টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আর জেলার ৬১৯টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য সেনাবাহিনী,র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৩টি উপজেলায় ১৯ হাজার ৫০৪ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১২০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৬১৮৬ জন সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ১২৩৭১ জন পোলিং কর্মকর্তা রয়েছেন।
