বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাইয়ে পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫), তাহিরপুর উপজেলার গাজিপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (৩২) ও দিরাই উপজেলার পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কাছের পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন চাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৬), মৃত রমজান আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৫০), জালাল উদ্দীনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২২)। দুপুর হটাৎ করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে নুর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, একই সময়ে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে চকিয়াচানপুর গ্রামের কাছে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, হবিবুর রহমান তার চাচার সঙ্গে টগার হাওর সংলগ্ন জমিতে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত হলে বজ্রঘাতে ঘটনাস্থলেই হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হবিবুর রহমানকে স্থানীয়রা দ্রুত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা দেন। তবে পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের কাছে বজ্রপাতে ওই গ্রামের জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫) এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অপর দিকে, তাহিরপুরে বজ্রপাতে আবুল কালাম (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের মধ্যে বজ্রপাত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম ও নুর মোহাম্মদ মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামার দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তারা হাওরে হাঁস চরাতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয় এবং নুর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত নুর মোহাম্মদকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফয়েজ আহমদ নুরী জানান, নুর মোহাম্মদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে কালীয়াগোটা হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটাছিলেন দিরাই উপজেলার পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
