ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিঃ বাড়ছে বাড়ি ভাড়া

বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিঃ বাড়ছে বাড়ি ভাড়া

বাড়ছে বাড়ি ভাড়া

বাড়ছে বাড়ি ভাড়া

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, নিরাপদ নিউজ :  বাড়ি ভাড়া বাড়ে সাধারণত জানুয়ারির দিকে। কিন্তু পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার সেপ্টেম্বর থেকেই বাসা ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাড়ির মালিকরা। কোনো কোনো এলাকায় ভাড়াটিয়াদের বাড়তি ভাড়া পরিশোধের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সংযুক্ত রয়েছে, এমন ভাড়াটিয়াদের সেপ্টেম্বরের ভাড়ার সঙ্গেই বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই পানির বিল পরিশোধ করেন বাড়ির মালিকরাই। ভাড়া বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ, গ্যাসের সঙ্গে পানির মূল্যবৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে।

ভাড়াটিয়ারা বলছেন, রাজধানী ঢাকা এমনিতেই একটি ব্যয়বহুল শহর। খুবই সাধারণ জীবনযাপনে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঢাকায় বসবাসকারী মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের। মাসের শুরুতেই আয়-রোজগারের অর্ধেকটা ভাড়া বাবদ খরচ হয়ে যায়। এছাড়া নিত্যপণ্যের দামও আকাশছোঁয়া। এ অবস্থায় বাড়তি ভাড়া পরিশোধ আর্থিক চাপ বাড়াবে। আরো কঠিন করে তুলবে জীবনযাপন।

মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় থাকেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা অর্ক হাসান। এক বেড ও ডাইনিং স্পেসের ছোট্ট ফ্ল্যাটটির ভাড়া ১১ হাজার। প্রতি মাসের ভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করে থাকেন তিনি। এবার সেপ্টেম্বরের ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন বাড়িওয়ালা।

অর্ক হাসান বলেন, রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া এমনিতেই বেশি, যা অযৌক্তিক। আর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাড়ি ভাড়ার ওপর। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা।

পূর্ব শেওড়াপাড়ায় দুই রুমের একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন মনোয়ার হোসেন। ভাড়া দেন ১০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে বাড়িওয়ালা এসে জানিয়ে দিয়েছেন এ মাস (সেপ্টেম্বর) থেকে আরো ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে বলেই এ বাড়তি ভাড়া দিতে হবে বলে জানান তিনি। মনোয়ার হোসেন বলেন, ঢাকায় বাসা ভাড়া অত্যন্ত বেশি। এর ওপর বাড়তি ভাড়া দুর্ভোগ বাড়াবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া।

গত ১ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ঢাকা ওয়াসার পানি ও স্যুয়ারেজ বিল। আগে আবাসিক ব্যবহারের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল্য ছিল ৭ টাকা ৭১ পয়সা। এখন তা বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা ৯ পয়সা। আর বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল্য ছিল ২৫ টাকা ৬৬ পয়সা। এখন তা বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা ৯৪ পয়সা। পানির বিলের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে স্যুয়ারেজ সেবার জন্যও।

১ সেপ্টেম্বর থেকে বেড়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য। বর্ধিত দামে প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুতের মূল্য গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৮ পয়সা অর্থাৎ ২ দশমিক ৯৩ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ দশমিক ২৯ ভাগ। তবে গৃহস্থালি রান্নার চুলায় ৪৫-৫০ ভাগ দাম বাড়ানো হয়েছে। এক চুলার ক্ষেত্রে দিতে হবে ৪০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকার পরিবর্তে গুনতে হবে ৬৫০ টাকা।

পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর পরই বাসা ভাড়া বাড়াতে চাইছেন বাড়ির মালিকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেওড়াপাড়ার এক বাড়ির মালিক বলেন, পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের বিল আমরাই পরিশোধ করি। সরকার যদি এগুলোর দাম না বাড়াত, আমরাও বাসা ভাড়া বাড়াতাম না। এখন পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত বিল তো আর আমরা পকেট থেকে পরিশোধ করব না।

এ বিষয়ে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সমন্বয়ক (প্রোগ্রাম) আহমেদ একরাম উল্লাহ বলেন, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়েছে সরকার। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের জন্য দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতেই রাজধানীবাসীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি বিলের প্রভাব সবখানেই পড়বে। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই সরকারকে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো সেবাগুলোর মূল্য কমাতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা ভাড়াটিয়া উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মো. মাসুদ রানা বলেন, প্রতি বছর বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আমাদের সংবাদ সম্মেলন করতে হয়, মানববন্ধন করতে হয়। কোনোবারই প্রতিকার পাই না। এটি একটি সমস্যা। এবারো আমরা ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ পেয়েছি। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাব।

তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ারা সংগঠিত নয়। তারা মিছিল করতে পারে না, রাস্তা বন্ধ করতে পারে না। তাই সরকারও তাদের স্বার্থ নিয়ে ভাবে না। ’৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জুলাই বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সার্বিক সমস্যা নিরসনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে বলা হয়, কমিশন সুপারিশ না করা পর্যন্ত ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী সরকারের আর্থিক সক্ষমতাসাপেক্ষে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একজন করে নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপনিয়ন্ত্রক নিয়োগের উদ্যোগ নেবে।

রায়ে আরো বলা হয়, এটি পরিষ্কার যে, নাগরিকদের জীবনধারণে অন্যান্য মৌলিক উপকরণের মতো আবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। যে কারণে আবাসন ব্যবস্থাকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ছেড়ে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণমূলক আইনি ব্যবস্থায় নেয়া প্রয়োজন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)