English

29 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২
- Advertisement -

বগুড়ায় যমুনার ভাঙনের মুখে চারটি গ্রাম, ৪৯০ ঘরবাড়ি বিলীন

- Advertisements -

যমুনা নদীর মুখে অবস্থিত বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙনের ফলে বিলীন হতে চলেছে চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরদলিকা গ্রাম।

চলতি মাসের শুরুতে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৪৯০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। আরো ভাঙনের মুখে পড়েছে ইউনিয়নের চরদলিকা গ্রামসহ হাটবাড়ি গ্রাম, কাশিরপাড়া গ্রাম ও শিমুলতাইড় গ্রাম। গ্রামগুলোর প্রায় আরো পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়েছে গেছে। কিছু ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বগুড়া জেলা সারিয়াকান্দি উপজেলাটি এখন যমুনা নদীর মুখে রয়েছে। এক সময় সারিয়াকান্দি থেকে বেশ দূরে নদী থাকলেও এখন ভাঙনের কারণে যমুনা নদীটি উপজেলা সদরের কাছে চলে এসেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে চরদলিকা গ্রাম গত দুই মাসের ব্যবধানে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। জুলাই মাসে বন্যার আশঙ্কা করা হলেও বন্যা এখন পর্যন্ত দেখা দেয়নি।

Advertisements

এখন আর এই গ্রামের কোন কিছু নেই। ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামবাসী ভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরদলিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন প্রবলহারে বেড়েছে। গত কয়েকদিনে ৮০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

যমুনা নদীর চর এলাকা হওয়ার কারণে আরো বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাটবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের কাশিরপাড়ার বেশিরভাগ বসতভিটা নদীতে দেবে যাচ্ছে। গ্রামের ৬০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। তারা হারিয়েছেন তাদের বসতভিটা।

এ গ্রামের ভাঙরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙন এলাকা হতে মাত্র ১ শত মিটার দূরে অবস্থান করছে। কয়েকদিনের মধ্যেই বিদ্যালয়টি ভাঙ্গতে হবে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। শিমুলতাইড় গ্রামও যমুনা নদীতে ভেঙে চলেছে সমানতালে।

এ পর্যন্ত গ্রামের ৫০টির বেশি পরিবার হারিয়েছেন তাদের ভিটামাটি। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা এখন নিরুপায় হয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রামটির ১টি মসজিদও ভেঙে গেছে। শিমুলতাইড় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভঙেন এলাকা হতে মাত্র ২শ মিটার দূরে অবস্থান করছে। নদীভাঙন বন্ধ না হলে স্কুলটি খুব তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিতে হবে।

Advertisements

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরদলিকার ৯০ বছরের বৃদ্ধ সাহেব আলী জানান, চরের বসতভিটা হাজারবার ভাঙলেও কোনদিন কোন ব্যবস্থা হয়নি।

চরের এমন কোন মানুষ নাই, যার বসতভিটা বারবার ভাঙেনি। তাদের স্বজনদের কোন কবরের ঠিকানা নাই। কবর দেয়ার কয়েক বছর পরই কবরের ঠিকানা হয় প্রমত্তা যমুনা নদী বক্ষ। তিনি বেশ কয়েকবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চয়ারম্যান শওকত আলী জানান, জীবনে তার বাড়ী ভেঙ্গেছে ১১ বার। ২০১৭ সালে বাড়ি করেছেন সুজাতপুর চরে।

এ চরেই এখন বসবাস করছেন। ইউনিয়নে ভাঙনের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা খাদ্য এবং ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেল মিয়া জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জি আর এর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, চরে নদী ভাঙন ঠেকাতে এখনো কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। তবে চরের ভাঙন ঠেকাতে আগামীতে প্রকল্প প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন