এ কে আজাদ: আনোয়ার জাহান নান্টু। বরেণ্য সুরকার-সংগীত পরিচালক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একজন জনপ্রিয় সুরকার হিসেবে ছিলেন সুপরিচিত। বহু চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন। সারাজীবন কাটিয়েছেন সঙ্গীত সাধনায়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি রেখেছেন অনন্য অবদান। একজন সৎ, নির্লোভ, নিরাহংকারী, ধীরস্থীর শান্তস্বভাবের অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। সঙ্গীতসাধক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহান নান্টুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, ৭৪ বছর বয়সে, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুদিবসে প্রয়াত এই গুণীজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
আনোয়ার জাহান নান্টু ১৯৪৯ সালের ১২ জুন, ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি মনোনিবেশ করেন তিনি, বিশেষ করে বাদ্যযন্ত্রের প্রতি। এক সময় হারমোনিয়াম, তবলা ও গিটারসহ প্রায় সবধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেন । পরবর্তীতে ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে জরিত হন। তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন- ‘আমি তখনকার সময়ে শিল্পী আজম খানের সাথে গান করতাম’।
আনোয়ার জাহান নান্টুর সুর ও সঙ্গীত পরিচালনার প্রথম চলচ্চিত্র ‘সালতানাৎ’ মুক্তিপায় ১৯৮৪ সালে, পরিচালক মোতালেব হোসেন।
তিনি আরো যেসব চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- অমর, ঝিনুক মালা, বাল্যশিক্ষা, মাটির কোলে, গীত, ভাই আমার ভাই, শিমুল পারুল, রাগ অনুরাগ, গরীবের সংসার, ঘরবাড়ি, নিষ্ঠুর, কন্যাদান, প্রেম, সুপারম্যান, নীল সাগরের তীরে, হারানো প্রেম, আলিফ লায়লা আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, প্রেমগীত, প্রেমের সমাধি, নিষ্পাপ বধূ, লাট সাহেবের মেয়ে, গরীবের রাজা রবিনহুড, তুমি সুন্দর, গরীবরাও মানুষ, চুরমার, বিজলী তুফান, নায়ক, বীর সৈনিক, জজ ব্যারিস্টার, রাজা বাংলাদেশি, চাকরানি, বিষাক্ত ছোবল, নাচ রূপসী, বকুল ফুলের মালা, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বাংলার কিং কং, সাথী হারা নাগিন, হেডমাস্টার, টাইম মেশিন, আয়না সুন্দরী, আকাশ মহল, সুজন মাঝি প্রভৃতি।
আনোয়ার জাহান নান্টু চলচ্চিত্র ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারের জন্যও তৈরি করেছেন অসংখ্য গান। উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় গান। তাঁর সুর করা কিছু জনপ্রিয় গান- আমার এই গানখানি যদি ভালো লাগে কোনো দিন ভুলে যেও না, খোদা তোমার এই দুনিয়ায় আমি আজ এতিম অসহায়, বুকে ধরে রাখবো ছবি আঁকবো মনেতে কত আশা, জীবনের নৌকা চলে হেলে-দুলে পাল তুলে, স্বরলিপি যতো আমার তোমাকে শিখাবো, প্রেমের সমাধি ভেঙে, সুখেরও নীড়ে আমি নীড়হারা পাখি, তুমি আমার মনের মাঝি আমার পরান পাখি, এলো বসন্ত আমারই গানে, চোখের জলে আমি ভেসে চলেছি, তুমি ডুব দিওনা জলে কন্যা, আমার সুখের সাথী আয়রে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি।
এই বরেণ্য সংগীত পরিচালকের পরিবারের একাধিক সদস্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত। পরিচালক-কাহিনীকার দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তাঁর ভাই। বিশেষ করে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর প্রায় সব ছবিতেই উনি সুর-সংগীত পরিচালনা করেছেন। ভাগ্নে এন এম ইস্পাহানী ও ভাতিজা আরিফ জাহানও চলচ্চিত্র পরিচালক। ছোট পর্দার বড় নির্মাতা সাগর জাহান তাঁর ছেলে।
এদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান নান্টু। একজন নির্লোভ, নিরাহংকারী, ধীরস্থীর শান্তস্বভাবের অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এই গুণী সঙ্গীতসাধক। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও সংগীতে তাঁর অনন্য অবদান অনস্বীকার্য।
