যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ভিন্নধর্মী এক বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ৪,৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ‘আবারকুহ সাইপ্রেস’ বা ‘জোরোস্ট্রিয়ান সার্ভ’ গাছের একটি ছবি প্রকাশ করে ইরানের হাজার বছরের ইতিহাস ও সভ্যতার গভীর শিকড়ের কথা তুলে ধরেছেন।
শনিবার দেওয়া ওই বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ৪,৫০০ বছরের প্রাচীন বৃক্ষ যেন ইরানি সভ্যতার শক্তি। এশিয়ার প্রাচীনতম এই জীবিত উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক আবারকুহ সাইপ্রেস এমন এক ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রাচীনকালেও ইরান নামেই পরিচিত ছিল। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই পোস্টের মাধ্যমে পেজেশকিয়ান বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরানের ইতিহাস ও অস্তিত্ব অত্যন্ত সুপ্রাচীন এবং গভীরভাবে প্রোথিত; তাই বহিরাগত চাপ দিয়ে দেশটিকে দুর্বল করা সহজ নয়।
‘সার্ভ-ই আবারকুহ’ নামে পরিচিত এই প্রাচীন পারস্য সাইপ্রেস গাছটি অবস্থিত আবারকুহ অঞ্চলে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের ধারণা, গাছটির বয়স প্রায় ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ বছর। এটি শুধু এশিয়ারই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জীবন্ত উদ্ভিদ হিসেবেও পরিচিত।
প্রায় ২৫ মিটার উচ্চতার এই গাছটির কাণ্ডের পরিধি প্রায় ১১.৫ মিটার। সহস্রাব্দ পেরিয়েও এর সবুজ সতেজতা ও বিশাল আকৃতি আজও অটুট রয়েছে, যা বহু মানুষের কাছে পারস্য সভ্যতার স্থায়িত্ব ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
