জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা পরিবর্তনগুলোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: জোনায়েদ সাকি

- Advertisements -

জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা পরিবর্তনগুলোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসীদের অভিযোজন চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় পর্যায়ের সমাধান’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) ও সুইজারল্যান্ড সরকারের উন্নয়ন সংস্থা (এসডিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

Advertisements

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে স্থানচ্যুত বা জলবায়ু অভিবাসী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি সমন্বিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিগত দিনের ‘দয়া বা করুণা’র সংস্কৃতি ঝেঁটিয়ে বিদায় করে নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেখা গেছে, একের পর এক প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আমরা এখন প্রজেক্ট থেকে প্রোগ্রামের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। প্রজেক্টে সরাসরি যাওয়ার অর্থ হলো আবারও সেই পুরোনো বৃত্তে আটকে পড়া। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি ইকোসিস্টেম ডেভেলপ করা, যেখানে প্রতিটি প্রজেক্ট একে অন্যের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত থাকবে এবং সমস্যার টেকসই সমাধান দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয় পুনর্গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি, তা সহজ নয়। আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই পরিবর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। আমরা যা করতে চাইছি, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সেই ভাষা বুঝতে পারছে না। তবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকার পরিবর্তনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নগরায়ন ও অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে আমরা সবকিছুকে ঢাকামুখী হতে দেখেছি। এর ফলে শহরটি আজ অচল হয়ে পড়ছে। যতক্ষণ না উপজেলা পর্যায়ে উন্নত পয়োনিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, ততক্ষণ মানুষ ঢাকামুখী হবেই। আমরা আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছি, যার মাধ্যমে এই অচল অবস্থা দূর করে উপজেলা পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

Advertisements

অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু তা ধারণ করার মতো প্রশাসনিক ও আইনি সক্ষমতা আমাদের তৈরি করতে হবে। বাজেট বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে টাকা খরচ করতে না পারাটা বড় ব্যর্থতা। এই ধারা বদলাতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছি, যাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায় মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ ছিল। এখন গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে, ফলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দাবি সামনে আসছে। অভিবাসী বা স্থানচ্যুত মানুষের সমস্যাগুলো এখন আর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত নগরায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা এই সরকারের সফলতার মাপকাঠি হবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/2j50
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন