গাইবান্ধা সদর উপজেলায় মুরগীবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঠাকুরের দিঘি এলাকায় গাইবান্ধা-ধর্মপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ উর রহমান।
নিহতরা হলেন- জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাতনাবাড়ি এলাকার পাতা মিয়ার ছেলে ইজিবাইক চালক ফরিদ মিয়া (৫০)। অপরজন সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামের মাসুদার রহমানের ছেলে রুস্তম আলী (৩০)।
আহতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম (৫২) ও তার স্ত্রী ধর্মপুর পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহেরুন্নেসা (৪৫), স্কুল শিক্ষক নাজমুন নাহার লাকি (৪০), শোভাগঞ্জ এলাকার শাপলা আক্তার (৪০) এবং তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধা থেকে দারিয়াপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি ইজিবাইক। পথে ঠাকুরের দিঘি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মুরগীবাহী পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালকসহ ছয়জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুস্তম আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজিবাইক চালক ফরিদ মিয়াও মারা যান। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় আহত চার শিক্ষককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং অন্যজন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ উর রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু আগেই হয়েছে। অন্যজন হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পড়েই মারা যান। চার জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পিকআপটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
