ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে বসতি স্থাপন করছে তেল আবিব

- Advertisements -

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গ্রাস করার লক্ষ্যে অবৈধ ইহুদি বসতি ব্যাপক আকারে সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি সরকার। ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে নতুন করে ২ হাজার ১৬২টি ইহুদি বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোচি। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমের কৌশলগত ‘ই-ওয়ান’ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি বেদুইনদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে তাদের ঐতিহাসিক ভূমি দখল করার চক্রান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি পরিকল্পনা কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুমোদিত ২ হাজার ১৬২টি নতুন আবাসনের মধ্যে ১ হাজার ৬টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে জেরুজালেমের কাছে একটি নতুন অবৈধ বসতিতে, ৯২২টি নাবলুস শহরের কাছে এবং বাকি ২৩৪টি ব্রুেনের কাছাকাছি এলাকায়। বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো- ভূমির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ অনড় করা, যাতে ওই অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে কোনো স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হতে না পারে।

এই আগ্রাসনের পথ সুগম করতে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ইসরায়েল সরকার একটি বিতর্কিত ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুমোদন করে।

Advertisements

সেই নিয়ম অনুযায়ী ফিলিস্তিনিরা যদি নিজেদের জমির মালিকানার অকাট্য প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েল সরকার সেই জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকার পায়। ইতোমধ্যে নাবলুসের বাজারিয়া শহরের মোড়ে বেশ কিছু দোকানপাট ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং রামাল্লার দেইর সুদান গ্রামে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা বুলডোজার নিয়ে জমি দখল করতে শুরু করেছে।

বসতি সম্প্রসারণের সমান্তরালে পূর্ব জেরুজালেমের উপকণ্ঠে বসবাসকারী ‘আরব আল-জাহালিন’, ‘খান আল-আহমার’ ও আবু নুওয়ার’ সম্প্রদায়ের প্রায় ৭ হাজার বেদুইনকে তাদের ভিটেমাটি থেকে তাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ইসরায়েল এই বেদুইনদের একাংশকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ‘আল-জাবাল’ নামক একটি পাহাড়ি ও ঘিঞ্জি এলাকায় স্থানান্তর করেছিল, যার ফলে তাদের ঐতিহ্যগত উন্মুক্ত জীবনযাত্রা ও পশুপালনের চারণভূমি ধ্বংস হয়ে যায়।

সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার আল-জাবাল এলাকার পাশে শামি নেইবারহুড’ নামের একটি আবাসন প্রকল্পে ৯৫০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘পিস নাও’-এর মতে, এই আবাসন প্রকল্পটি মূলত বাকি বেদুইনদের বর্তমান ভিটেমাটি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেওয়ার একটি ফাঁদ। ইসরায়েলের সুপ্রিমকোর্টের নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প বাসস্থান না দিয়ে কাউকে উচ্ছেদ করা যায় না, আর সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ঢাকতেই এই লোকদেখানো আবাসন তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisements

বিশ্লেষকরা এই সামগ্রিক ই-ওয়ান বসতি প্রকল্পকে কেয়ামতের বসতি বলে অভিহিত করেন। কারণ, এই অঞ্চলে ইহুদি বসতি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ‘সার্বভৌমত্ব সড়ক’ নির্মিত হলে তা পুরো পশ্চিম তীর বা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলবে। এর ফলে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন চিরতরে সমাহিত হবে। খোদ অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচও স্বীকার করেছেন, এই প্রকল্প ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকেই কবর দিয়ে দেবে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর এই উসকানিমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের এই ‘পাগলামি’ পুরো অঞ্চলকে চরম সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা এই আগ্রাসন থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পশ্চিমা দেশগুলো এই অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দা জানালেও বাস্তবে ইসরায়েলি বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের প্রক্রিয়া দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/6rg7
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন