English

19 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
- Advertisement -

প্রথমবার পডকাস্টে এসে যে পরিকল্পনা জানালেন তারেক রহমান

- Advertisements -

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পডকাস্টে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় পডকাস্টটি প্রচারিত হয় বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পডকাস্ট-১ এ তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘আজকে আমি আপনাদের সামনে আমার একটা চিন্তা, একটা ভাবনা, একটা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে চাই। আপনারা জানেন কয়েক দিন পরে নির্বাচন। নির্বাচনে আপনাদের রায় পেলে আমরা ইনশাল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হবো। কিন্তু সরকার গঠন করলে কাজ তো করতে হবে—দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। তাহলে কী কী কাজগুলো করবো? একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেকগুলো কাজ আমাদের করার আছে। তার ভেতরে কয়েকটি কাজের কথা আপনাদের সামনে আমি আজকে তুলে ধরতে চাই।’

‘প্রথমে আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো বা আপনাদের সামনে আমার একটা পরিকল্পনার কথা বলবো যেটা এই দেশের কোটি কোটি মা বোনেদের জন্য। সেটা হচ্ছে এই যে আপনারা আমার হাতে একটা ছোট কার্ড দেখছেন। এই কার্ডটার নাম আমরা দিয়েছি ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডটা আমরা বাংলাদেশের যারা মা বোনেরা আছেন, তাদের হাতে দেবো এটা। এখন হয়তো কেউ কেউ বলতে পারেন, আমরা কী সকল মা বোনের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ডটা পৌঁছে দিবো? না, সেভাবে করছি না, করছি তবে একটু অন্যভাবে। বাংলাদেশে আমরা যদি পরিবার হিসেবে দেখি, ৪ কোটি পরিবার আছে বাংলাদেশে। ৭০ শতাংশের মতন গ্রামে থাকে, ৩০ শতাংশের মতন পরিবার শহর অঞ্চলগুলোতে থাকেন। আমরা কাজটি শুরু করবো পরিবারভিত্তিক। প্রথমে গ্রাম থেকেই শুরু করবো, শহরেরও কিছু কিছু অংশ নিবো—যেই শহরের যেই অংশগুলোতে সাধারণত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ বা পরিবারগুলো থাকে, সেই পরিবারগুলোকে দিয়ে।’

‘এখন আসেন আপনাদেরকে বলি কাদেরকে দেবো। ধরুন আপনি একজন গৃহিনী, আপনি একজন মা। আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা হয়তো ৫ বা ৬। আপনি যদি মা বা গৃহিনী হয়ে থাকেন, তখন আপনার কাছে আমরা পৌঁছাবো এবং পৌঁছে আপনার কাছে এইরকম একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি কার্ড দিবো। এই কার্ডটির মধ্যে আপনার নাম থাকবে, এই কার্ডটির মধ্যে একটি নাম্বার থাকবে, এই কার্ডটির মধ্যে মেয়াদ থাকবে এবং এই কার্ডটির মধ্যে স্ক্যানিং করার মতন একটা দাগ থাকবে অনেকগুলো। এখন আপনি হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন যে এই যে ৪ কোটি পরিবার বললাম, একবারে সব ৪ কোটি পরিবারকে দেবো? ৪ কোটি পরিবারকে হয়তো আমরা একবারে সব দিতে পারবো না। আমরা ধীরে ধীরে পরিবারগুলোর কাছে যাবো। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে সকল পরিবারের কাছে পৌঁছানোর।’

‘এখন আসেন, এই ফ্যামিলি কার্ড তো দিলাম। কিন্তু লাভটা কী হলো তাহলে আপনার? লাভটা হচ্ছে এইরকম—এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রতি মাসে আপনার কাছে অর্থাৎ আপনি যেই মা বা যেই গৃহিনী, আপনার কাছে আমরা প্রতি মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা হয় নগদ অথবা আপনার পরিবারের যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, ৫ জনের পরিবার হিসাব ধরে প্রয়োজনীয় যে খাদ্যসামগ্রী, এরকম কতগুলা খাদ্যসামগ্রী আমরা আপনার কাছে পৌঁছে দিবো।’

‘তাহলে কি হতে পারে? ধরেন আপনার পরিবারের যেই ৫ জন বা ৬ জন ম্যাক্সিমাম, এই পরিবারের মাসিক খাবার বা বাজার খরচ—একদম খুব প্রয়োজনীয় বাজার খরচ হয়তো মাসে ৫-৬ হাজার টাকা। এখন আপনাকে যদি সরকার থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হয় অথবা ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার সমপরিমাণ মূল্যের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী আমরা সরকার থেকে যদি আপনাকে দিতে পারি, তাহলে এই মুহূর্তে আপনার পরিবারে যে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে যেটি এখন আপনি নিজে থেকে খরচ করছেন, এটির একটি সাপোর্ট আপনি পেলেন, এটির একটি সহযোগিতা আপনি পেলেন। ফলে আপনার নিজের যেই টাকাটি খরচ হচ্ছে বা যে অর্থ খরচ হচ্ছে ওটা কিনতে, সেই টাকাটি আপনি আস্তে আস্তে জমাতে শুরু করতে পারলেন।’

‘এখন জমিয়ে তো নিশ্চয়ই রাখবেন না। আমরা মনে করি আমাদের মা বোনেরা এই অর্থটা বা সহযোগিতাটা যদি পান তারা, তাহলে এই অর্থটি আপনি খরচ করবেন—প্রথমেই একজন মা তার সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করবেন যাতে সন্তানটি একটু ভালো খেতে পারে অথবা সন্তানদের লেখাপড়ার পিছনে আপনি খরচ করবেন যেন আপনার সন্তান একটু ভালো লেখাপড়া করতে পারে। তারপরেও যদি আপনি সেখান থেকে সাশ্রয় করতে পারেন, সেখানে আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই আপনি যদি গ্রামে থাকেন অথবা শহরে থাকেন—যেখানে থাকেন, নিশ্চয়ই আপনি খুঁজে নিবেন যে ছোট্ট কোনো বিনিয়োগ যদি আপনি করতে পারেন যেখান থেকে আপনার সংসারের ছোট হলেও একটা এক্সট্রা, অতিরিক্ত আয় আপনার কাছে আসবে, যেটি দিয়ে আপনি আপনার সংসারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।’

‘আমরা চাই এই ফ্যামিলি কার্ডটির মাধ্যমে একটি করে পরিবার—সারা বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার আছে, এই পরিবারগুলোর যারা দরিদ্র, অতি দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, বিশেষ করে প্রথমে এই পরিবারগুলোকেই সহযোগিতাগুলো পৌঁছে দেওয়া। যার ফলে তারা আস্তে আস্তে করে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিটা যাতে মজবুত হয়। কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন যে আমরা কি কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে যাবো? না, কয়েক দিনের ভিতর হবেন না। তবে হ্যাঁ, আপনি ধরেন ৫ বছর, ৬ বছর বা ৭ বছর পর্যন্ত যদি একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন গৃহিনী এই সহযোগিতাটা পান, নিশ্চয়ই এটি আপনাকে সাহায্য করবে।’

‘আজকে যখন আপনি আপনার সন্তানদের সুস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে পারবেন, আপনার সন্তানদের যখন সুশিক্ষা দিতে পারবেন এই সহযোগিতাটির বিনিময়ে, তখন কি হবে দেখুন—আজকে না হলেও কাল না হলেও, এ বছর না হলেও আগামী বছর না হলেও, আগামী ৫ বছর পরে কিন্তু আপনার পরিবারটি একটি সচ্ছল পরিবার হবে। আপনার গ্রামে আপনার পরিবারটি যেমন সচ্ছল হবে, আস্তে আস্তে অন্য পরিবারগুলোও সচ্ছল হবে; অর্থাৎ আমরা অর্থনৈতিকভাবে একটি সচ্ছল গ্রাম পাচ্ছি। যে গ্রামের বলা যাবে হয়তো মোটামুটি সবগুলো শিশু তারা ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হবে, বলা যাবে সবগুলো শিশু শিক্ষিত হবে। ঠিক আপনার গ্রাম এভাবে স্বাবলম্বী হবে, আপনার পরিবার যেমন হবে; ঠিক আপনার ইউনিয়ন, তারপর আপনার উপজেলা, তারপর আপনার জেলা, আপনার বিভাগ—এক সময় সমগ্র বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারের দেখা যাবে অধিকাংশ পরিবার সচ্ছল হয়ে উঠছে। তাহলেই আমরা গড়ে তুলতে পারবো আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশিত বাংলাদেশ।’

‘প্রথম প্রথম হয়তো মনে হতে পারে ফ্যামিলি কার্ডটি ছোট। কিন্তু আমরা এই ছোট ছোট কাজগুলোকে যদি, ছোট ছোট পরিবারগুলোকে যদি একসাথে নিয়ে আসতে পারি, একসাথে ধীরে ধীরে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, একসময় এই পরিবারগুলি বিরাট একটি বাংলাদেশ, শক্তিশালী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে।’

‘এর পরে নিশ্চয়ই আপনারা জিজ্ঞেস করছেন, আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন আছে—এই ফ্যামিলি কার্ডটি তাহলে কারা কারা পাবে? আসুন, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে মজার বিষয়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম সহযোগিতা চালু আছে। অমুক এই শ্রেণির মধ্যে হলে এই সহযোগিতা পাবে, অমুক এই শ্রেণির মধ্যে হলে অমুক সহযোগিতা পাবে। এই ফ্যামিলি কার্ডটি আমরা সকল মা বোনের কাছে, সকল গৃহিনী, সকল স্ত্রী, সকল মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সেজন্যই এটাকে আমরা জেনারেল রেখেছি। এবং আমরা মনে করি এটি যেমন একজন কৃষকের স্ত্রী পাবেন, এটি যেমন একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের স্ত্রী পাবেন, এটি একজন গ্রামের ভ্যান চালক তার স্ত্রী পাবেন, রিকশাচালক তার স্ত্রী পাবেন; ঠিক একইভাবে এটা ইউএনও সাহেবের স্ত্রী উনিও এটা পাবেন। ডিসি সাহেব বা এসপি সাহেবের স্ত্রী উনিও এটা পাবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর স্ত্রী উনিও পাবেন, ঠিক আরেকজন সচ্ছল ব্যবসায়ীর স্ত্রী উনিও পাবেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ তার নিজের দেশকে অনেক ভালোবাসে। কাজেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যাদের প্রয়োজন নেই তারা সেটি ফিরিয়ে দিবেন। এবং তারা যখন ফিরিয়ে দিবেন, সেই কার্ডের অংশটা আমরা দিতে পারবো যারা সত্যিকার যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে দিতে পারবো। হয়তোবা এমনও তো হতে পারে বর্তমানে আমরা ঠিক করেছি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, যাদের প্রয়োজন নেই তারা যখন ফিরিয়ে দিবেন, সেই আড়াই হাজারকে আমরা হয়তো ৩ হাজারেও নিয়ে যেতে পারবো।’

‘প্রিয় মা বোনেরা, প্রিয় দেশবাসী, এই হচ্ছে আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা। গল্প নয় কিন্তু, পরিকল্পনা। ইনশাআল্লাহ আপনাদের রায় পেলে আমরা বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে আমরা সারাদেশের সকল পরিবারের কাছে সকল মা বোন, সকল গৃহিনী, সকল মায়েদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিবো। এই ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে দিয়ে আপনার সম্মান আপনার পরিবারের কাছে যেমন বৃদ্ধি পাবে, আপনার আত্মমর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে; ঠিক একইভাবে আপনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন। গড়ে তুলতে পারবেন আপনি একটি সুস্থ, একটি শিক্ষিত, একটি সুন্দর পরিবার। আজ ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা এ পর্যন্তই থাকুক। এর পরে যখন কাজ শুরু করবো তখন এ নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো আপনাদেরকে। সকলে ভালো থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।’

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/8n1i
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন