গাভীর ম্যাস্টাইটিস রোগে নতুন জীবাণু শনাক্ত

- Advertisements -

দেশে গাভীর অন্যতম পরিচিত ও ক্ষতিকর রোগ হলো ওলানে প্রদাহ বা ম্যাস্টাইটিস। এ রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং দুধের গুণগতমানও নষ্ট হয়। তীব্র প্রদাহের কারণে অনেক সময় ওলান স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।

ম্যাস্টাইটিস সাধারণত বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দ্বারা সংঘটিত হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক গাভীর এ রোগে নতুন এক ধরনের জীবাণু শনাক্ত করেছেন।

জীবাণুটি জুনোটিক, অর্থাৎ আক্রান্ত গাভীর সংস্পর্শে এলে দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষম ব্যক্তির নিউমোনিয়া, রেচনতন্ত্রের সংক্রামণ ও সেপটিসেমিয়া হতে পারে।

Advertisements

নতুন এই জীবাণুটি শনাক্ত করেছেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন ড. মো. হাবিবুর রহমান।

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া জীবাণুটির নাম এন্টারোব্যাক্টর ক্লোয়াসি (Enterobacter cloacae), যা রড-আকৃতির গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া এবং বহু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখায়।

অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, এই জীবাণুটি সাধারণত গোয়ালঘরের মেঝে ও নোংরা অংশে পাওয়া যায়। গাভীর ওলান যখন এ মেঝের সংস্পর্শে আসে তখন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে দুধ দহনের পর ওলানের সঠিক যত্ন নিলে এবং গোয়ালঘর জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে সহজেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর পাশাপাশি গাভীর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি এড়াতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

Advertisements

তিনি বলেন, “ম্যাস্টাইটিস প্রতিরোধে আমরা ‘বাউ পলিভ্যালেন্ট’ নামের একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছি, যা এই রোগ প্রতিরোধে প্রায় ৮০ শতাংশ কার্যকর। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে এটি সুলভ মূল্যে খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। গাভীর বাচ্চা প্রসবের ৬ মাস আগে ভ্যাকসিনটি একবার প্রয়োগ করতে হয় এবং প্রসবের দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এতে গাভীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ম্যাস্টাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমে যায়।”

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির (বাস), এনসেপটা ও বাকৃবির মধ্যে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তাদের আর্থিক সহায়তা পেলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই করে খামারিদের কাছে উন্নতমানের ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/964c
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন