English

22 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
- Advertisement -

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলো ভারত

- Advertisements -

ভারত সরকার নতুন নিয়ম জারি করেছে, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে কোনো অবৈধ কনটেন্টের বিষয়ে জানানো হলে তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা সরাতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩৬ ঘণ্টা।

সংশোধিত এই নির্দেশনা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং মেটা (ফেসবুক), ইউটিউব ও এক্স (সাবেক টুইটার)সহ বড় সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।

সরকার সময়সীমা কমানোর নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এটি অনলাইন কনটেন্টের ওপর সরকারের নজরদারি আরও কড়াকড়ি করার অংশ এবং এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতে সেন্সরশিপের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে অবৈধ মনে হওয়া কনটেন্ট সরাতে সরকার বারবার নির্দেশ দিয়েছে। স্বচ্ছতা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরকারিভাবে দেওয়া অনুরোধের পর ২৮ হাজারের বেশি ওয়েব লিংক বা ইউআরএল ব্লক করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে এআই-নির্মিত কনটেন্ট সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো আইনে এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত অডিও-ভিডিও (যেমন ডিপফেক) কী—তার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা হয়, সেখানে স্পষ্টভাবে লেবেল দিতে হবে। সম্ভব হলে কনটেন্টের উৎস শনাক্তে স্থায়ী চিহ্ন যুক্ত করতে হবে এবং কোম্পানিগুলো এসব লেবেল অপসারণ করতে পারবে না।

এ ছাড়া অবৈধ এআই কনটেন্ট শনাক্ত ও ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণামূলক বা সম্মতি ছাড়া তৈরি কনটেন্ট, ভুয়া নথি, শিশু নির্যাতনের ছবি বা ভিডিও, বিস্ফোরক-সংক্রান্ত কনটেন্ট এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার।

ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন বলেছে, এত কম সময়সীমা প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত সেন্সর-এ পরিণত করবে।

ডিজিটাল ফিউচারস ল্যাবের গবেষক অনুশকা জৈন বলেন, কনটেন্টে লেবেল দেওয়ার নিয়ম স্বচ্ছতা বাড়াবে, তবে তিন ঘণ্টার সময়সীমা কোম্পানিগুলোকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা অতিরিক্ত সেন্সরশিপের ঝুঁকি বাড়াবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রসান্ত কে রায় বলেন, এটি সম্ভবত কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সবচেয়ে কঠোর কনটেন্ট অপসারণ ব্যবস্থা।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/9ljq
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন