যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল বা কিনে নেওয়ার অব্যাহত হুমকির মুখে দ্বীপ রাষ্ট্রটির সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিনল্যান্ডের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডবাসী এতটাই বিচলিত যে অনেকে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না।
তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার বন্ধু এবং মিত্র হিসেবে কাজ করলেও তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্যকে আপত্তিকর এবং বিভ্রান্তিকর হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ একে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে কারণ তারা সবসময়ই আমেরিকার জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাথানিয়েলসেন সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক অভিযান চালায় বা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে তবে তা হবে আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান সকল চুক্তির চরম লঙ্ঘন। তিনি একে বিশ্ব ব্যবস্থার পতন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ড নয় বরং পুরো ন্যাটো জোট এবং বিশ্ব আইন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।
আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ওই অঞ্চলে রাশিয়া বা চীনের তৎপরতা পর্যবেক্ষণে তারা ন্যাটোকে আরও বেশি সুযোগ দিতে প্রস্তুত কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির সকল রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি বড় আবাসন চুক্তির সাথে তুলনা করে এটি দখল করাকে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য আগ্রাসী মনোভাব প্রশমিত করতে ব্রিটেনসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সৈন্য মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা করছে বলেও জানা গেছে।
