রাস্তায় প্রিজনভ্যানে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই দুর্ঘটনায় তার ঘাড়ের দুটি ও কোমরের তিনটি হাড় সরে গেছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী তরিকুল ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে এমআরআই-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তরিকুল ইসলাম। এ ছাড়া পলককে যাথাযথভাবে কারাগারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পলকের আইনজীবী বলেন, ‘প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার পর আমরা তার (পলক) এমআরআই করার আবেদন করি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পিজি হাসপাতালে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের এমআরআই করা হয়। আজ আমরা এমআরআই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী পলকের কোমরের ৩ টা হাড় যথাক্রমে এল-২, এল-৩ ও এল-৪ সরে গেছে। এ ছাড়া ঘাড়ে দুটি হাড়ে সমস্যা ধরা পড়েছে। এরমধ্যে ঘাড়ের সি ৫-৬ এর ভিতর একটি ও সি ৬-৭ এর ভিতর ডিস্কে সমস্যা দেখা গেছে।’
আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন,‘জুনাইদ আহমেদ পলক আগে থেকেই অসুস্থ। গত শনিবার আমি কারাগারে তার সাথে দেখা করি। তিনি ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। প্রতিবেদনে ঘাড় ও কোমরে হাড় সরে গেলেও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা তার চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করব।’
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল পলকের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানিয়েছিলেন, গত ২৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলকের হাজিরা ছিল। শুনানি শেষে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে যাওয়ার পথে আরেকটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। তিনি প্রিজনভ্যানের মধ্যে পড়ে যান। এতে ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন পলক। তিনি এমআরআই করাতে চান। এজন্য আদালতে চিকিৎসা চেয়ে আবেদন করতে বলেছেন।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ অগাস্টে পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবীকে কোমরের ব্যথার কথা জানাতেন পলক। তার কোমরে ব্যথার জন্য ব্যবহৃত বেল্টও দেখা গেছে।
