ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে উড়িয়ে টাইগারদের ইতিহাস

- Advertisements -

মিরপুর টেস্টে মুখোমুখি হবার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচে জয়ের দেখা পায় টাইগাররা। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জেতা ওই ২টি ম্যাচই ছিল পাকিস্তানের মাটিতে। এবার প্রথমবারের মত ঘরের মাঠে টেস্টে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ১৬৩ রানে। ফলে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে নেয় ১০৪ রানে। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হাসান শান্তর দল। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা জিতল টানা তিনটি টেস্টে।

২৬৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে (২) কট-বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তাসকিন আহমেদ। সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল ৫৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে থিতু হয়ে বসা আজানকে (১৫) প্রলুব্ধ করে বোল্ডের স্বাদ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মাত্র ২ রান করে তিনি নাহিদ রানার গতির কাছে পরাস্ত হন। এর মাঝে এক প্রান্ত ধরে রেখে লড়াকু ফিফটি তুলে নেন ফজল। ৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে পাকিস্তান চা-বিরতিতে যায়। তখনো তাদের জয়ের জন্য ১৫২ রান প্রয়োজন ছিল। বিরতি থেকে ফিরেই আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যাওয়া ফজলকে (৬৬) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সবচেয়ে বড় বাধাটি সরিয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ফজল বিদায় নিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। পরের ওভারেই তাসকিন আহমেদ স্লিপে সাদমানের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন সালমান আলীকে (২৬)।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল পঞ্চম দিনের শেষ সেশন। যেখানে পাকিস্তানের সব আশা শেষ করে দেন নাহিদ রানা। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌদ শাকিল (১৫)। এরপর ১৪৭ কিলোমিটার গতির এক ‘ম্যাজিক’ ইন-সুইঙ্গারে রিজওয়ানকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর একে একে হাসান আলী ও নোমান আলী দ্রুত বিদায় নিলে বাংলাদেশের জয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টানেন নাহিদ। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৪০ রানে পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ। টেস্টে দ্বিতীয়বার তিনি নিলেন পাঁচ উইকেট। তার আগের সেরা ছিল ৬১ রানে পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ও তাসকিন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মিরাজ নিয়েছেন ১ উইকেট।

Advertisements

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

পাকিস্তানের হাসান আলি ও নোমান আলি ২টি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ ও পাকিস্তান ৩৮৬ রান করেছিল। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করা বাংলাদেশ ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

 

মিরপুর টেস্টে জয় থেকে ২ উইকেট দূরে বাংলাদেশ

হাসান আলীকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেন তাইজুল। সাজঘরে ফেরার আগে ৭ বল খেলে ১ রান করেন তিনি। বলা যায়, ম্যাচ এখন পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১১৪ রান, হাতে আছে মাত্র ২টি উইকেট।

এর আগে মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনের পড়ন্ত বিকেলে গতির ঝড় তুলেন নাহিদ রানা। একে একে পাকিস্তানের দুই ভরসা সৌদ সাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফেরত পাঠান তিনি। ৩২ বলে ১৫ রান করেন শাকিল। আর রানার ১৪৭ কিমি গতির ইন-সুইংয়ে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৫ বলে ১৫ রান করেন রিজওয়ান।

চা বিরতির পরই ২ ওভারে ২ উইকেট পেল বাংলাদেশ

Advertisements

চা বিরতি শেষে প্রথম ওভারেই আক্রমণ করতে আসেন তাইজুল ইসলাম। ওভারের একটি বল ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজলের প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো শুরুতে আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। রিপ্লেতে দেখা যায় বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করছে। এতে ফজলকে (৬৬) ফিরতে হয় সাজঘরে। এর মাধ্যমেই ভাঙে ৪৮ রানের বিপজ্জনক জুটি। তাইজুলের পর আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে আউটসাইড এজ হয়ে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন সালমান আলী আঘা। ৩৯ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সালমান।

পাকিস্তান এখন ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে। তাদের দরকার ১৩৭ রান, হাতে আছে ৫ উইকেট। অন্যদিকে, জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৫টি উইকেট।

এর আগে প্রথম সেশনে ১ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেশনে আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে বাংলাদেশ। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ৩১ ওভারে পাকিস্তানের রান ৩ উইকেটে ১১৬। ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সালমান আলী আঘা (২১*)। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। জয়ের জন‍্য তৃতীয় ও শেষ সেশনে ৭ উইকেট চাই স্বাগতিকদের। অন্যদিকে জয়ের জন‍্য শেষ সেশনে পাকিস্তানের দরকার ১৫২ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/pgw3
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন