সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ধাক্কা এখন আর ভাবনায় নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার মতে, দল অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মূল লক্ষ্য এখন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপ।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘না নেই, এটা আর নেই। আমরা ছেড়ে দিয়েছি, আপনি যত তাড়াতাড়ি ছাড়বেন, ততই ভালো,’ অতীত নিয়ে আর না ভাবার অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, সবশেষ বিশ্বকাপে না খেলতে পারার মানসিক ধাক্কা কতটা কাটিয়ে উঠেছে দল।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ায় বাংলাদেশ দল তীব্র হতাশায় ভুগেছিল। সেই সময়ের ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে দল। লিটনের মতে, এখন পুরো মনোযোগ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নতির দিকে।
তিনি বলেন, আসন্ন বিশ্বকাপ যেহেতু উপমহাদেশের বাইরে, তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে বাংলাদেশ দলে। তাঁর ভাষায়, ‘এশিয়ার কন্ডিশনের বাইরে খেলাটা অনেক কঠিন হবে। ওই জায়গার জন্য আমাদের দলে আরও অনেক কিছু আনতে হবে খেলোয়াড় হিসেবে। যদি দেড় বছর ধরে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে ভালো কিছু সম্ভব।’
মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে হারের পরও অধিনায়ক হিসেবে নিজের সময়কে ইতিবাচকভাবে দেখছেন লিটন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোটে দায়িত্ব নিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর তিনি পাকাপাকিভাবে নেতৃত্ব পান।
এরপর তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই সিরিজ হারলেও পরবর্তী তিনটি সিরিজ টানা জিতে নেয়। এর মাধ্যমে লিটন বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এখন দেশের সফলতম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, তিনজনের নেতৃত্বেই ১৬টি করে জয় রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশ ১-১ সমতায় শেষ করে। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়, আর মিরপুরে শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে হারে টাইগাররা।
নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে লিটন বলেন, তিনি দায়িত্বটা উপভোগ করছেন, তবে নিজের মূল্যায়ন করতে চান না। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক উপভোগ করছি। আমার প্রাপ্তি কেমন ছিল সেটা আপনারাই বলবেন। আমার মনে হয় দল হিসেবে বাংলাদেশ গত এক বছরে ভালোই করেছে।’
তিনি আরও জানান, সামনে ব্যস্ত সূচি রয়েছে এবং উন্নতির ধারাটা ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এই বছরে আমাদের আরও ছয়টি ম্যাচ আছে, ভালো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। কীভাবে আমরা পারফর্ম করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ,’বলেন তিনি।
বাংলাদেশের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং আগস্টে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
