জহিরুল ইসলাম মিশু, সিলেট ব্যুরো: পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে ২য় টেস্টের ২য় দিনে বাংলাদেশের ২য় ইনিংসে মুমিনুল আউট হওয়ার পরই দিনের খেলা শেষ করে দেন আম্পায়াররা। বাঁহাতি ব্যাটার ফিরলে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপরও স্বস্তিময় একটা দিনই পার করল স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৬ রানের।
আগের দিন লিটন দাসের লড়াকু সেঞ্চুরিতে অলআউট হওয়ার আগে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজ দুই সেশনের একটু বেশি খেলে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড নেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান করেছে। নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৮) ও আজান আওয়াইসকে (১৩) ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক-থ্রু দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ (২১) ও সৌদ শাকিলকে (৮) দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে মিডল অর্ডার কাঁপিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম সেশনের পর দ্বিতীয় সেশনটিও নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। হাফ সেঞ্চুরি করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা বাবর আজমকে (৬৮) ফিরিয়ে দিনের সবচেয়ে বড় উইকেটটি নেন নাহিদ রানা। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩), সালমান আলী আঘা (২১) ও হাসান আলীকে (১৮) একে একে ফিরিয়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ ও তাইজুল। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৫ রানে ফেরেন অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসে ২৬ রান করা এই ওপেনার এবার করলেন মাত্র ৪ রান। দ্বিতীয় উইকেটে মুনিনুলকে নিয়ে ৭৬ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন মাহমুদুল হাসান জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন তিনি। অবশেষে শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির দেখা পেলেন।
মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আব্দুল্লাহ ফজলের তালুবন্দী হওয়ার আগে ১০ বাউন্ডারিতে ৫২ রান এনে দেন জয়। জয়ের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন শান্ত। অধিনায়ককে নিয়ে দিন পার করে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন মুমিনুল। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক ব্যক্তিগত ৩০ রানে ফিরলে ভাঙে ১৯ রানের জুটি। বাংলাদেশের পতন হওয়া ৩ উইকেটের দুইটাই নেন খুররম শেহজাদ। এই পেসারের খরচ ১৯ রান। বৃষ্টি না হলে চতুর্থ দিনেই শেষ হবে সিলেট টেস্ট, সেটা একরকম নিশ্চিত।
