জহিরুল ইসলাম মিশু,সিলেট ব্যুরো: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২য় টেস্টের চতুর্থ দিনে সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত জুটিতে একপর্যায়ে রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। তবে শেষ বিকেলের রোমাঞ্চে তাইজুলের জোড়া আঘাতে আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। দলীয় ২৯৬ রানে সালমানকে বোল্ড করে ১৩৪ রানের জুটি ভাঙ্গেন তাইজুল। পরের ওভারে তাইজুল ফিরিয়ে দেন হাসান আলীকেও। রানের খাতাই খুলতে পারেননি হাসান। শেষ বিকেলে এমন জোড়া শিকারে টাইগারের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার।
ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আর মাত্র ৩টি উইকেট। অন্যদিকে রেকর্ড ৪৩৭ রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তোলা পাকিস্তানের এখনো চাই ১২১ রান। শেষ দিন সাজিদ খানকে নিয়ে লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নামবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। রিজওয়ান ৭৫ রানে এবং সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন।
চা বিরতির আগে শান মাসুদকে ফিরিয়ে ম্যাচে এক হাত দিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তখনই স্বাগতিকদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান রিজওয়ান-সালমান। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের (রিজওয়ান-সালমান) ১৩৪ রানের জুটি ভাঙার পর তাইজুল যখন আরও এক উইকেট পেলেন, তখন চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সিলেটে ততক্ষণে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্লাডলাইট। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ৫টা ৩০ মিনিট বাজতেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৬ রানে ৭ ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ চতুর্থ দিনে শূন্য থেকেই শুরু করে পাকিস্তান। তাদের সফরকারীদের নামের পাশে কেবল ২ ওভার। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে সফরকারীরা ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয়। প্রথম দুই উইকেটেই অবদান রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যেখানে ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদ রানাকে কাট করতে যান আব্দুল্লাহ ফজল (২)।
পয়েন্টে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মিরাজ। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে (২১) ১৬তম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। ৩৫তম ওভারের প্রথম বলে বাবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। গ্ল্যান্স করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন বাবর (৪৭)।এরপর বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার সৌদ শাকিলকে (৬) ফেরান রানা। এবারও ক্যাচ ধরেন লিটন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা তাইজুল দিয়েছেন ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে। মাসুদের ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে ধরেন জয়। ১১৬ বলে ৮ চারে করেন ৭১ রান। পাকিস্তান অধিনায়কের এটা টেস্টে ১৪তম ফিফটি।
মাসুদের বিদায়ে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬২ রান।এরপর থেকে স্বাগতিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সালমান-রিজওয়ান। অবশেষে ৮২তম ওভারের পঞ্চম বলে সালমানকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন তাইজুল। ১০২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রান করেন সালমান। সালমানকে ফেরানোর পর হাসান আলীকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেছেন তাইজুল। প্রথম স্লিপে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শান্ত। তাইজুলের জোড়া আঘাতে ৮৩.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০৪ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান।চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে তাদের স্কোর এখন ৩১৬।
