অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি: অস্ট্রেলিয়ায় নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে প্রয়াত কালজয়ী কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের প্রয়াণ দিবস। এই উপলক্ষে সিডনিতে টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে তাঁর জীবনীপাঠ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাবেয়া খাতুনের সাহিত্যকর্ম, নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর ভূমিকা এবং সমকালীন সমাজে তাঁর চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন পান সুপারির সিইও এবং কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের পুত্রবধূ কনা রেজা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে রাবেয়া খাতুনের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সাহিত্য সাধনার নানা দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাব অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ও ভয়েস অব সিডনি সম্পাদক অর্ক হাসানের সভাপতিত্বে এবং ডায়াসপোরা শিশু-বিষয়ক সাংবাদিক কে এম ধ্রুব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট চিন্তক ও উন্নয়নকর্মী কিশোয়ারা আক্তার কাকলী। প্রবন্ধে তিনি বলেন, রাবেয়া খাতুন বিশেষত নারীদের সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে যে শক্ত ভিত্তি ও অনুপ্রেরণামূলক পথ তৈরি করে গেছেন, তা উপমহাদেশের সাহিত্য ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেন ট্রাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাম মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল আইয়ের এস এম নাসির, ফজলুল হক রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি ড. নটরাজ রায়, ট্রাব যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল বশির, নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি বেলাল আহমেদ, ইউরোপ শাখার সভাপতি আবু তাহের, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিল্পোদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ সিআইপি এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মনিরুল হক জর্জসহ আরও অনেকে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে রাবেয়া খাতুনের সাহিত্যিক অবদান স্মরণ করেন এবং প্রবাসেও তাঁর সাহিত্যচর্চা ও গবেষণা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল, সিডনির কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, এডভোকেট মোবারক হোসেন, লিবারেল পার্টির এমপি পদপ্রার্থী জাকির আলম লেনিন, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. ওয়ালিউল ইসলাম, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন, ফার্মেসি বিষয়ক গবেষক সেলিমা বেগম সালমা, বাংলা স্কুল অস্ট্রেলিয়ার প্রিন্সিপাল মিলি ইসলাম, রিয়েল স্টেট বিষয়ক গবেষক আলী শিকদার, আইটি ফোরামের শাকিল শিকদার, হারুন অর রশিদ, অভিনেতা আশরাফ কবির, ঢাকা কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বি এম দুলাল, বিএফইউজে এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, হেমা রেজোয়ান, মিলি নূর, ফাহমিদা খন্দকার, ভয়েস অব সিডনি পাঠক ফোরামের সিজান খান, আলোকচিত্রী অর্নব বিন জামান, সাব্বির খান, হৃদয়। তাঁদের বক্তব্যে রাবেয়া খাতুনের সাহিত্যিক গভীরতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ পরিবর্তনে লেখকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সভাপতির বক্তব্যে ট্রাব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি অর্ক হাসান সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত ঔপন্যাসিক রাবেয়া খাতুনের সাহিত্য ও কর্মজীবনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তাঁর সাহিত্যকর্ম ও অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনকাহিনি সরকারি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা উপস্থিত সকলের সমর্থন লাভ করে।
সবশেষে সমাজে আলোর দিশা দেখিয়ে নীরবে আড়ালে চলে যাওয়া মহান কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
