ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি: ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস–২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে।
দিবসের প্রথম প্রহরে রোমের রবীন্দ্র পার্কে স্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের ভিডিও বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনই বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি রচনা করে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক তাঁর বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “Youth voice on multilingual education” তরুণ প্রজন্মকে মাতৃভাষার পাশাপাশি বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবনে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া মিলান, ভেনিস, বোলজানো সহ ইতালির বিভিন্ন শহরেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে এবং কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
