আলমগীরের ৭৭তম জন্মদিন আজ

- Advertisements -

নাসিম রুমি: বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক আলমগীরের জন্মদিন আজ। ২০২৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে কলেজজীবনে নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবনের যাত্রা শুরু হলেও মূলত ১৯৭২ সালের ২৪ জুন প্রয়াত বরেণ্য পরিচালক আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।

১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি এই সিনেমা মুক্তির আগেই আলমগীর সিরাজুল ইসলামের ‘দস্যুরানী’ (১৯৭৪), আজিজুর রহমানের ‘অতিথি’, আলমগীর কুমকুমের ‘মমতা’, মোহর চাঁদের ‘হীরা’ সিনেমার কাজ শুরু করেন। সেই থেকে আজ অবধি অভিনয় করে চলেছেন তিনি। সর্বশেষ তিনি তার নিজের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করেন।

১৯৭৫ সালে তিনি শাবানার বিপরীতে ‘চাষীর মেয়ে’ ও কবরীর বিপরীতে ‘লাভ ইন শিমলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৮ সালে ‘জিঞ্জির’ চলচ্চিত্রে সেই সময়ের প্রতিষ্ঠিত নায়করাজ রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে আরও অধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন। আজ আলমগীরের ৭৭তম জন্মদিন।

জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারই সহধর্মিণী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা বলেন, ‘আমার ভীষণ ভালো লাগার, ভালোবাসার মানুষ তিনি। আল্লাহর অশেষ রহমত যে তিনি সুস্থ আছেন ভালো আছেন, আমাদের মাঝে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন। তার সঙ্গে সব সময়ই আমার দারুণ বোঝাপড়া, যেকোনো বিষয় নিয়েই আমি তার সঙ্গে আলোচনা করি। তবে আমার খুউব দুঃখ হয় যে তিনি যে ধরনের ট্যালেন্টেড একজন অভিনেতা, সে হিসেবে তার ট্যালেন্টকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আমার বিশ্বাস, যদি আগামীতে তার কোনো চরিত্র বা কোনো গল্প ভালো লেগে যায়- আবারও তিনি অভিনয় করতে পারেন। অনেক উদার মনের, আমার জীবনসঙ্গী এবং অনেক বড় মনের এই মহানায়কের প্রতি রইল অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসা।’

১৯৮৫ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ ছবিতে দীপক চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এর পর অপেক্ষা, ক্ষতিপূরণ, পিতা মাতা সন্তান, মরণের পরে, অন্ধবিশ্বাস, দেশপ্রেমিক, কে আপন কে পর, জীবন-মরণের সাথী’ সিনেমায় অভনিয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভের বছরেই ১৯৮৫ সালে ‘নিষ্পাপ’ ছবি দিয়ে আলমগীরের চলচ্চিত্র পরিচালনায়ও অভিষেক হয়।

পারিবারিক টানাপড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে আলমগীর ছিলেন একজন সফল অভিনেতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজক-পরিচালক, গায়ক ও উপস্থাপক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। আলমগীর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে আরও বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনিই বাংলাদেশের নায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চবার এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’প্রাপ্ত হন। তিনি পরিচালক হিসেবে সর্বশেষ ‘একটি সিনেমার গল্প’ নির্মাণ করেছেন।

আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তার শৈশব-যৌবন কেটেছে তেজগাঁও এলাকায়। তার প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘ঝুমকা’। এক সময় রাজধানীর গ্রিন রোডে একটি স্কুলে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে গানও শিখেছিলেন তিনি। মোস্তফা মেহমুদের ‘মনিহার’ সিনেমায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সত্য সাহার সুর-সংগীতে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/7zv1
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন