বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে “চলচ্চিত্রে অপসংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশীয় উপাদানে কন্টেন্ট নির্মাণ এবং জাতীয় ভাবধারাপন্থী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদানের জন্য চলচ্চিত্র সমালোচনার গুরুত্ব” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ মান্না ডিজিটাল হলে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ নিস্তার জাহান কবীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাসুমা রহমান তানি।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব এস এম আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব খোরশেদ আলম খসরু এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি জনাব শাহীন সুমন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও চেতনাকে তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। দেশীয় সংস্কৃতি ও বাস্তব জীবনভিত্তিক গল্পকে চলচ্চিত্রে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অপসংস্কৃতির প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দেন বক্তারা।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ শিল্পচর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গঠনমূলক চলচ্চিত্র সমালোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন চলচ্চিত্র সমালোচকের ভূমিকা শুধু ত্রুটি চিহ্নিত করা নয়, বরং নির্মাতাকে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং দর্শকের মধ্যে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুস ছাকিব বলেন, সংস্কৃতি বহমান এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই সমাজ এগিয়ে যায়। তিনি চলচ্চিত্রকে গণমানুষের শিল্পমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিসিটিআই-এর মেন্টর ও একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য রফিকুল আনোয়ার রাসেল বলেন, দেশীয় উপাদাননির্ভর কনটেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি অপসংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, নিজের সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে অন্য সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, বিসিটিআই প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিক্ষার একটি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বাস্তবধর্মী ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্বারোপ করেন এবং বিসিটিআই শিক্ষার্থীদের জন্য বিএফডিসিতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির আশ্বাস দেন।
সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নিজেদের সংস্কৃতি ধারণ ও বিকাশে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, এফডিসিকে নির্মাণবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিই বিশ্বমানে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রধান শক্তি হতে পারে এবং বিসিটিআইয়ের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশীয় কনটেন্টের মাধ্যমে বিশ্বজয় করবে।
বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বিসিটিআই শিক্ষার্থীদের জন্য বিএফডিসিতে কর্মক্ষেত্র ও ইন্টার্নশিপ সহজতর করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিসিটিআইয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
