এ কে আজাদ: শহীদুল হক খান। সাংবাদিক, চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক, নাট্য নির্মাতা, উপস্থাপক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নির্মাতা, গীতিকার এবং একজন দক্ষ সংগঠক। বহু নাটক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। মাত্র তিনটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। এরমধ্যে একটি উপন্যাস থেকে আর একটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। তাঁর নির্মিত এদুটি চলচ্চিত্র প্রশংসিত হয়েছে।
নির্মাতা শিল্প-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহিদুল হক খান এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রয়াত এই গুণী মানুষটির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
শহীদুল হক খান ১৯৪৮ সালের ১১ নভেম্বর, মুন্সিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হন। কাজ করেছেন- সাতরঙ, সাপ্তাহিক পূর্ণিমা, বিচিত্রা, ছায়াছন্দ। এক সময় বিচিত্রা’র নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।দৈনিক যায়যায় দিন এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৭৩ সালে, সমরেশ বসুর উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশে প্রথম ভারতীয় নায়িকা ঝুমুর গাঙ্গুলীকে এনে নির্মাণ শুরু করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘ছুটির ফাঁদে’। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ছবিটি মুক্তিপেতে অনেক দেরি (১৯৯০) হয়ে যায়।এই সিনেমাতে নিজের লেখা গানের জন্য তিনি গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। গানটি ছিল- ‘সাগরের সৈকতে কে যেন দূর হতে ডেকে ডেকে যায়’।
শহীদুল হক খান পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘কলমিলতা’ মুক্তিপায় ১৯৮১ সালে। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
‘সুখের সন্ধানে’ তাঁর নির্মিত তৃতীয় চলচ্চিত্র, যেটি মুক্তিপায় ১৯৮৮ সালে।
তিনি টেলিভিশনের জন্য অনেক নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। তাঁর হাত ধরেই ‘নায়ক’ নাটক দিয়ে মিডিয়াতে প্রথম আগমন ঘটে চিত্রনায়িকা পপির। এই নাটকে পপি ইলিয়াস কাঞ্চনের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
বিভিন্ন পত্রিকায় শহীদুল হক খান সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন লেখকও, তাঁর লেখা বেশ ক’টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এর সিনিয়র সদস্য।
সাংবাদিকতায় পেয়েছেন ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার।
বহুমুখী প্রতিভাধর একজন মানুষ ছিলেন তিনি। ছিলেন নতুন চিন্তায় বলিয়ান একজন উদ্যোমী মানুষ। আমাদের দেশে পহেলা বৈশাখ রমনা বটমুলের পাশে, পান্তা-ইলিশ খাবার প্রচলন করেন তিনি, যা কয়েক বছরের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন তো এটা সংস্কৃতির একটা অংশে পরিনত হয়েছে যেনো। শিল্প-সংস্কৃতি ভুবনের মর্যাদাবান পুরস্কার “নাট্যসভা’ পদক। এটির সংগঠক ছিলেন তিনি।
সাংবাদিক, কলামিস্ট, নাট্যকার, টিভি প্যাকেজ নাটক নির্মাতা ও টিভি ম্যাগাজিন নির্মাতা-উপস্থাপক, চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক, গীতিকার এবং একজন দক্ষ সংগঠক শহীদুল হক খান মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হয়েছেন।
