লোকজ মেলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। ঢাকঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দিয়ে সাজানো ছিল এই আয়োজন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী দিনের আয়োজন। লোকসংগীত দলের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এদিনের আসর। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় জালালগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল গান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের দলীয় পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে ৫০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হয়। সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।
এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক মৌলিকত্বকে আবার ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রত্যেকটা জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়ে, ঐতিহ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হবে এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা একটা রেইনবো জাতি গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে বসেছে, আমাদের লোকশিল্পের সমস্ত কিছুই আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে চাই। আমাদের সংস্কৃতির গভীরতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই। শিল্পী-সাহিত্যিকরা যেন সমাজে মাথা উঁচু করে থাকতে পারেন তাদের প্রতি সেই সহমর্মিতা রাখারও অনুরোধ জানান তিনি।
