নাসিম রুমি: জুলাই আন্দোলন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সেখানে তিনি ‘জুলাই বিপ্লব’ এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
জুলাই বিপ্লব কখনোই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নয়, একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। আমার দেখা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন কখনোই এত সহজ ছিলনা। অনুশোচনাহীন ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহনই ছিল মূখ্য।
বাংলাদেশের জেন-জি ( Generation- Zoomer’s ) প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে বহু ত্যাগের বিনিময়ে সফল হয়েছে জুলাই বিপ্লব। স্যালুট শহীদ এবং আহত জুলাই যোদ্ধাগণ।
জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণতা দেয়া যায়নি নানামুখী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারনে। তার মানে এই না জুলাই স্পিরিট মরে গেছে। বিভেদ বিভাজনের দেশে জুলাই সাময়িক পথ হারালেও তারুণ্যের মস্তিষ্কে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশের প্রয়োজনে নিজেদের বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা। মান্ধাতা আমলের বস্তাপঁচা রাজনীতি ক্রমাগত হোঁচট খেতে থাকবে প্রজন্মের স্মার্টনেসের কাছে।
দরজায় নক করছে হাইপারসনিক জেনারেশন আলফা (Gen-Alpha), তাদের মূলা দেখিয়ে ক্ষমতার রাজনীতি আর হবেনা। দলকানা হাইব্রীড চাটুকার অশিক্ষিত টোকাইদের নিয়ে দল ভারী করে মাস্তানতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার দিন শেষ।
রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রায় আট কোটি তরুন কিশোর শিশুদের মেন্টাল পালস্ বুঝতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই পিছিয়ে পড়তে হবে জ্যামিতিক হারে। ভয় দেখিয়ে শাসন করার দিন শেষ, কোন বিদেশী জুজু’র পদানত করে প্রজন্মকে আর ফাঁকি দেয়া সম্ভব না। তরুনরা রাজনীতিতে ঢুকে গেছে, তারা আরো আসবে দলে দলে।
হালদায় যেভাবে ডিম ছাড়তে আসে মা মাছ, ঠিক সেভাবে তারা জন্ম নিবে পরিবর্তনের অমোঘ আকর্ষনে। তাদের মিছিল মিটিংয়ে প্রতিদিনই সমাগম বাড়বে, তারা স্বেচ্ছায় আসবে। বস্তি থেকে ভাড়া করা লোক এনে, চাপাবাজ নেতার চীৎকার চেঁচামেচি দিয়ে আতঙ্ক তৈরী করে, হেলমেট বাহিনী, চাপাতি বাহিনী দিয়ে শুধু কেলেঙ্কারীর রেকর্ড হবে, রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবেনা। রাজনৈতিক দলগুলোর হোমওয়ার্ক বদলানোর শেষ সময় চলছে, সামনে অগ্নি পরীক্ষা, দেশের রাজনীতির আবহাওয়া আর আগের মত নাই।
