বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “জনপ্রিয় গণমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রের গুরুত্ব, চলচ্চিত্র প্রযোজনা, চলচ্চিত্রসহ গণমাধ্যমের ওপর আগ্রাসন রোধ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশীয় চলচ্চিত্রের পরিবেশনা” শীর্ষক কর্মশালা এবং চারটি কোর্স প্রোডাকশন প্রদর্শন ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠান শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) গাজীপুরের বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি, কবিরপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মো. মোকছেদ হোসেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক জনাব ওয়াহিদ সুজন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ ও বিশ্বদরবারে তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। চলচ্চিত্রের সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য ও স্থানিক সাংস্কৃতিক উপাদান বাংলাদেশের নিজস্ব পরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহফুজুল আলম এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রবীণ চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক,চলচ্চিত্র পরিচালক সায়মন তারিক, বিসিটিআই-এর মেন্টর রফিকুল আনোয়ার রাসেল, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিব এবং ঢাকা ডকল্যাবের ইমরান হোসেন কিরমানি।
মুক্ত আলোচনায় চলচ্চিত্র পরিচালক সায়মন তারিক বলেন, দেশীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয়, আমাদের নিজস্ব গল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করতে হবে। চলচ্চিত্রের শক্তি তার নিজস্ব মাটি ও মানুষের সঙ্গে সংযোগে নিহিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে সৃজনশীলতা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের জন্য দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও উদ্যোগী হতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে বিসিটিআই পরিচালিত চারটি কোর্সের চূড়ান্ত প্রোডাকশন প্রদর্শন ও মূল্যায়ন করা হয়।
