বলিউডের স্বজনপোষণ নিয়ে প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের পাতায় খবর প্রকাশ হয়। যেখানে বংশপরিচয় আর বড় বড় নামই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়, সেখানে ব্যতিক্রমী লড়াই লড়েছিলেন অভিনেতা ইরফান খান।
কেন তিনি পদবি ত্যাগ করেছিলেন? এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের উত্তরে ইরফান বলেছিলেন, আমি যখনই নিজের জন্মস্থানে যাই, দেখি মানুষ আজও আমাদের পূর্বপুরুষদের কীর্তি নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত।
যোগ করে তিনি বলেছিলেন, এটা দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। অতীতের ওপর দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার কোনও অর্থ নেই। আপনি বেঁচে আছেন, আপনার বর্তমান কাজই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সিদ্ধান্তই আপনার জীবন গড়ে তুলবে।
নিজের পদবি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কি কোনও আকস্মিক ভাবনা ছিল? এ বিষয়ে ইরফান জানিয়েছিলেন, এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সচেতন সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, একটা সময় আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরাই আমাদের জীবনের গল্পের লেখক। আমাদের পছন্দগুলোই সেই গল্প লেখে। আমার প্রেক্ষাপট বা আমার বংশপরিচয় নয়, বরং আমার কাজ এবং আমার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই আমাকে নিজের জীবনের গল্প লিখতে সাহায্য করবে।
বলিউডের সেই পরিচিত ছক থেকে বেরিয়ে ইরফান প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, অভিনেতা হতে গেলে ‘খান’ পদবিধারী পরিবারে জন্মানোর চেয়েও নিজের কাজ দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া অনেক বেশি জরুরি। আজ তিনি পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার সেই আদর্শ ও কাজ আজও নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।
