রাজনীতিতে আসা অভিনয়শিল্পীদের একহাত নিলেন খরাজ মুখার্জি

- Advertisements -

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে চলছে ভোটের লড়াই। এর মধ্যেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোট নিয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে একটি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখার্জি।

তিনি বলেন, প্রথমবার যখন ভোট দিই সেই সময় থেকেই যথেষ্ট রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে, সেটি দেখেশুনে রাজনীতি থেকে নিজেকে মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে নিয়েছি।

খরাজ মুখার্জি বলেন, ছোট থেকে যখন বড় হয়েছি তখন দেখেছি— রাজনীতি মানে আদর্শের জায়গা। এই পেশায় আসতে গেলে পড়াশোনার প্রয়োজন। বাড়িতে বড়দের দেখেছি—আদর্শের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু এখন দেখি, সবার শুধু ক্ষমতা আর টাকা চাই।

তিনি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। অভিনয় করে সংসার চালাই। তাই শৈশবের স্মৃতি যেন ধুয়েমুছে যাচ্ছে এই সময়ের এই অস্থির আদর্শহীন একটা সমাজকে দেখে।

Advertisements

এ অভিনেতা বলেন, ভোট নিয়ে হিংসা বন্ধ করার অনেক উপায় আছে। পৃথিবীতে যখন সবকিছুই অনলাইনে হচ্ছে, ভোটটা কেন করা যাচ্ছে না অনলাইনে? এই প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না।

খরাজ মুখার্জি বলেন, আমার ভোট চাক্ষুষ করা সত্তরের দশকে। তখনো অস্থির অবস্থা ছিল রাজ্যে। কিন্তু এখনকার মতো অবস্থা ছিল না। আসলে ভোটের দিনগুলোয় আগে ছিল ছুটির মেজাজ। আমি ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে যেতাম। পোলিং অফিসাররা আমাকে দেখে বেশ আদরের সঙ্গেই বলতেন— ‘কী বাবু, তুমি ভোট দেবে?’ আমি তখন মাথা নেড়ে বলতাম— ‘হ্যাঁ দেব।’ আমার মন রাখতে তারা ভোটের কালি লাগিয়ে দিতেন আমার নখে। সেটা পেয়েই যেন আলাদা একটা উৎসাহ আসত। মনে হতো আমিও বাবার মতো বড় হয়ে গেলাম। ভোটকেন্দ্রে পোলিং অফিসারদের সঙ্গে গল্প জমিয়ে ফেলতাম। তার মাঝেই বাবার ভোট দেওয়া শেষ।

তিনি বলেন, আসলে তখন এত হই হট্টগোল, ঝামেলা ও ঝগড়াঝাঁটির বিষয় তো ছিল না। এখন ছোটবেলার সেই সুন্দর স্মৃতি মুছে গেছে। ভোট দিতে যাওয়া মানে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া! রাস্তায় বেরোলেই বন্দুকের নল, ভোটকেন্দ্রের বাইরেও উর্দিধারীরা বন্দুক তাক করে বসে থাকে। উনিশ-বিশ হলেই বিপদ। আসলে এখন ব্যাপারটা হলো— নিরীহ মানুষের প্রাণ যায় যাক, ভোটটা ঠিক হতে হবে।

এ অভিনেতা বলেন, আমাদের সময় ভোটে দেখতাম, পাড়ায় মাইকে মাইকে প্রচার হচ্ছে। জনসভা হচ্ছে রাস্তায়। এখন আমরা সামাজিক মাধ্যম থেকে টেলিভিশন— সর্বত্র ঝগড়া দেখি। ছোটবেলায় একটা জিনিস দেখতাম, রাজনীতির লোকেরা কেউ খেটে খাওয়া কিংবা কেউ পড়াশোনা জানা মানুষ।

Advertisements

তিনি বলেন, আর একটা জিনিস ছিল। আগে যারা রাজনীতিতে অভিজ্ঞ তারাই রাজনীতি করতেন। এখন তো অভিনেতারাই রাজনীতিতে—কী যোগ্যতা আছে তাদের? আসলে যে কোনো জিনিস করতে গেলে সেটা শিখতে হয়। কিন্তু শুধু দেশ চালানোর ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার দেখি প্রয়োজন পড়ে না।

খরাজ মুখার্জি বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কী এমন করেছেন, যারা দেশ চালানোর যোগ্যতা রাতারাতি অর্জন করে ফেলেছেন? আসলে আমার আশপাশে এত মানুষকে দেখলাম নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী হতে এখন তো তাদের সতীর্থ বলতেও খারাপ লাগে। আর রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরাই বা অভিনেতাদের সাহায্য নেন কেন? প্রশ্ন জাগে। আমি বীতশ্রদ্ধ।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/jqxt
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন