হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মাঝসমুদ্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হনডিয়াস’। তবে কয়েকটি দেশের বন্দরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপে পৌঁছেছে জাহাজটি।
রবিবার সকালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের গ্রানাডিলা বন্দরে নোঙর করার পরপরই সতর্কতার সঙ্গে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জাহাজে থাকা ১৪৭ যাত্রীকে ছোট ছোট নৌকায় করে তীরে আনা হবে। পরবর্তীতে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটি ডক থেকে সবচেয়ে নিরাপদ দূরত্বে নোঙর করা হয়েছে। যাত্রীদের জাতীয়তা অনুসারে সর্বোচ্চ ১০ জন ধারণক্ষমতার ছোট নৌকায় করে তীরে আনা হবে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, যাত্রী ও নাবিকদের পরীক্ষা চালাতে মেডিক্যাল টিম জাহাজটিতে প্রবেশ করেছে। জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন। এসব দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনতে বিমান পাঠাচ্ছে।
প্রমোদতরীটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য আসা ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ থেকে নামার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। যাত্রীদের লাগেজ জাহাজেই থাকবে। পরে সেগুলো তাদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংক্রমিত না হওয়া ১৭ জন আমেরিকান যাত্রীকে নেব্রাস্কা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার পর তাদের ৪২ দিন বাড়িতে থেকে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। চৌদ্দ জন স্প্যানিশ যাত্রী প্রথমে জাহাজ থেকে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরুর পর এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এটি একটি বিরল রোগ যা সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র বা মলের সংস্পর্শে আসার কারণে হয়। এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যদের চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাহাজটি কেপ ভার্দেতে ভেড়ার কথা থাকলেও হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপদেশগুলো এটিকে তীরে ভিড়তে দেয়নি। ফলে প্রমোদতরী হন্ডিয়াস সমুদ্রে আটকা পড়ে। পরে তরীটি স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেখানেও ভেড়ার অনুমতি নিয়ে দ্বিমত দেখা দিয়েছে।
জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ভেড়ানোর বিষয়ে স্পেন সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট। তবে স্পেনের মন্ত্রীদের দাবি, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে জাহাজটির জন্য ক্যানারি দ্বীপই এখন সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান।
