ম্যাগুয়ার, ফোডেন, পামারদের বাদ পড়ার কারণ জানালেন ইংল্যান্ড কোচ

- Advertisements -

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল থেকে হ্যারি ম্যাগুয়ার, ফিল ফোডেন ও কোল পামারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান কোচ টমাস টুখেল। তিনি স্বীকার করেছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো ছিল ‘ভীষণ কষ্টের’, তবে দলের ভারসাম্য ও তরুণদের ক্ষুধা-উদ্দীপনাকে গুরুত্ব দিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য দল চূড়ান্ত করতে গিয়ে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে বলেও জানান জার্মান এই কোচ। গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা ম্যাগুয়ার, ফোডেন ও পামারকে বাদ দেওয়ার পেছনে নতুন দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টুখেল জানান, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের জাতীয় লিগ ক্যাম্পের পারফরম্যান্সই দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ দলে না থাকার খবর জানানো ছিল তার কোচিং জীবনের অন্যতম কঠিন কাজ।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খুব কঠিন ছিল। কারণ আমি তাদের প্রত্যেককে মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে সম্মান করি। তারা সবাই আমাদের সঙ্গে ক্যাম্পে ছিল এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা থেকে দল ছোট করতে গিয়ে অনেকেই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনো কখনো এতটাই কষ্টদায়ক ছিল যে ফোনালাপের সময়ও আবেগ অনুভব করেছি।’

Advertisements

টুখেল জানান, ক্যাম্পে থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অন্তত একবার করে ফোন করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে তাদের অবদান ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান দেখাতে চেয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘অনেকেই দলে থাকার যোগ্য ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেপ্টেম্বার, অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রমাণের ওপর ভরসা করেছি। সেই সময়ের নেতৃত্বগোষ্ঠী ও দলের পরিবেশ আমাদের মনে করিয়েছে যে আমরা নতুন উদ্যম পেয়েছি।’

অভিজ্ঞ ও তারকাখচিত খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও টুখেলের বিশ্বাস, আগের ক্যাম্পের ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপে দলের সফলতার সম্ভাবনা বাড়াবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে এমন কিছু তরুণ আছে যারা প্রবল ক্ষুধা ও উদ্দীপনা নিয়ে খেলছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণে খুব ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং সেটিই খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে এনেছে।’

দলের ভারসাম্য রক্ষা করাও তার বড় লক্ষ্য ছিল বলে জানান ইংল্যান্ড কোচ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন দল চাইনি যেখানে একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় থাকবে। পাঁচজন আক্রমণাত্মক মাঝমাঠের খেলোয়াড় নিয়ে তাদের অস্বাভাবিক জায়গায় খেলানো কারও জন্যই ভালো হতো না।’

Advertisements

টুখেলের মতে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ফেলা ভালো, যাতে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বাড়তি চাপ তৈরি না হয়।

এখন তার লক্ষ্য নির্বাচিত দলটির মধ্যে সেই একই বোঝাপড়া, একতা ও তীব্রতা গড়ে তোলা, যা জাতীয় লিগ ক্যাম্পগুলোতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ম্যাগুয়ার, ফোডেন ও পামারের মতো তারকাদের বাদ দেওয়ায় সমালোচনার চাপও বাড়ছে দ্রুত। শেষ পর্যন্ত টুখেলের এই বড় সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, সেটি প্রমাণ হবে বিশ্বকাপের মঞ্চেই।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড রয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/e8dl
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন