English

28.4 C
Dhaka
শুক্রবার, আগস্ট ২৯, ২০২৫
- Advertisement -

লতিফ সিদ্দিকী বললেন, আদালতের প্রতি আস্থা নেই, কী হলো এজলাসে

- Advertisements -

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সামনে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রিজন ভ্যানে আনা হয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে। ভ্যানটি হাজতখানার দিকে যায়।

দেড় ঘণ্টা পর তাঁরা হাজতখানা থেকে বের হন। লতিফ সিদ্দিকীর মাথায় পুলিশের হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। তাঁর দুই হাত পেছনে ছিল। তবে হাতকড়া পরানো ছিল না। লতিফ সিদ্দিকীর পেছনে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। তাঁর বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় পুলিশের হেলমেট। ডান হাতে হাতকড়া, বাঁ হাতে বাংলাদেশ সংবিধান। এ সময় হাফিজুর রহমান সংবিধান বাঁ হাত ধরে উঁচু করে ধরে রাখেন। পরে তাঁদের নেওয়া হয় আসামির কাঠগড়ায়।

আদালতের প্রতি আস্থা নেই, বললেন লতিফ সিদ্দিকী

একজন আইনজীবী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে এগিয়ে যান। তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে চান। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আইনজীবীকে বলেন, আদালতের প্রতি তাঁর কোনো আস্থা নেই। এ জন্য তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেবেন না। তখন সেই আইনজীবী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে জানতে চান, তিনি নিজে আদালতে কোনো কথা বলতে চান কি না? তখনো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সেই আইনজীবীকে জানিয়ে দেন, তিনি আদালতের কাছেও কোনো বক্তব্য দেবেন না।

সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে এজলাসে আসেন সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক। তখন সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তৌফিক হাসান বলেন, ‘মাননীয় আদালত, গতকাল বেলা ১১টার সময় দায়িত্ব পালনকালে জানতে পারি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে। তখন দেখতে পাই, একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের জন্য মঞ্চ ৭১ নামের একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে।’

পুলিশ কর্মকর্তা তৌফিক হাসান বলেন, ‘মাননীয় আদালত, উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী “মঞ্চ-৭১”–কে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’

এ পর্যায়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, মঞ্চ-৭১ নামের সংগঠনটির জন্ম হয়েছে ৫ আগস্ট। যেদিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। আসামি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিরা সবাই ফ্যাসিস্ট হাসিনার সুবিধাভোগী। বিগত ১৭টি বছরে পরে তাঁরা কোনো না কোনোভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন।’

পিপি শামসুদ্দোহা বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য তাঁরা বর্তমান সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়ে পিপি শামসুদ্দোহা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের আরেকটি মামলায় একজন মেজরের স্ত্রীসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীরাও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত। আমরা খুব শিগগির তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করব। কারা এই আসামিদের সহযোগী, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেটি জানার জন্য এই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সন্ত্রাসী হামলা করল, পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করেছে: হাফিজুর রহমান

পিপি শামসুদ্দোহা যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কথা বলার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর হাফিজুর রহমান বাঁ হাত দিয়ে সংবিধান উঁচু করে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন অধ্যাপক। সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে একজন নাগরিককে যেসব অধিকার দেওয়া হয়েছে, তার কোনো অধিকার আমরা পাচ্ছি না। আমাকে গ্রেপ্তার করার কোনো কারণ জানানো হয়নি। আমি কোনো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগও পাইনি।’

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি তো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনার জন্য মঞ্চ-৭১ নামের সংগঠনের আয়োজকেরা আমাকে আলোচক হিসেবে সেখানে আমন্ত্রণ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেনেরও সেই প্রোগ্রামে থাকার কথা ছিল। সেখানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান।’

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার প্রসঙ্গে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, সেটি মিথ্যা মামলা। গতকাল আমাদের ওপর একদল সন্ত্রাসী হামলা করল, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমাদের ধরে নিয়ে পুলিশ যে কক্ষে রেখেছিল, সেখানে কোনো ফ্যান ছিল না। সারা রাত আমার ঘুম হয়নি। আমাকে জামিন দেওয়া হোক…।’

হাফিজুর রহমান আদালতের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের সম্পর্কে পিপি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মিথ্যা। মামলার বিষয়ে না বলে আদালতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ghzu
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন