ট্রিগার ফিঙ্গারের কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা

- Advertisements -
উম্মে ছালমা: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হাতের ব্যবহার অপরিসীম, কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন- হাতের কোনো আঙুল ভাঁজ করতে গেলে তা আটকে যাচ্ছে বা সোজা করার সময় ‘ক্লিক’ শব্দের সঙ্গে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে? যদি এমনটি ঘটে, তবে আপনি সম্ভবত ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস’-এ ভুগছেন। এটি একটি পরিচিত সমস্যা, যা সাধারণত অনামিকা (চতুর্থ আঙুল) ও বৃদ্ধাঙুলির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দেখা দেয়। এতে আঙুলের ফ্লেক্সর শিথ বা টেনডনের আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

আমাদের হাতের আঙুলের হাড়ের সঙ্গে পেশিগুলোকে যুক্ত করে ‘টেনডন’ নামে এক ধরনের টিস্যু, যা একটি সরু নালি বা ‘শিথ’-এর মধ্য দিয়ে চলাচল করে। কোনো কারণে টেনডন ফুলে গেলে বা শিথ সংকুচিত হয়ে গেলে আঙুল নাড়াচাড়া করার সময় টেনডনটি আটকে যায়। এতে পিস্তলের ট্রিগার চাপার মতো অনুভূতি তৈরি হয় বলেই একে ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে টেনডনের ওপর ছোট পিণ্ড বা নডিউল তৈরি হয়ে মসৃণ চলাচলে বাধা দেয়, যদিও প্রাথমিক ফোলাভাবের নির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না।

এই সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আঙুল শক্ত হয়ে বাঁকানো অবস্থায় আটকে থাকা, আঙুল ভাঁজ বা সোজা করার সময় ‘পপিং’ বা ‘ক্লিকিং’ শব্দ হওয়া, আঙুলের গোড়ায় বা তালুর ওপরের অংশে ব্যথা ও ফোলা ভাব কিংবা স্পর্শকাতর পিণ্ড অনুভূত হওয়া। গুরুতর অবস্থায় আঙুল ভাঁজ হয়ে আটকে থাকে এবং অন্য হাতের সাহায্য ছাড়া সোজা করা যায় না। যারা দীর্ঘসময় ধরে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করেন, যেমন- টাইপিং, সেলাই, বাগান করা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো- তাদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউট রোগীর ঝুঁকি বেশি এবং নারীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে, এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

Advertisements

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কনজারভেটিভ পদ্ধতিতেই ভালো ফল পাওয়া যায়। আঙুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে- এমন কাজ থেকে বিরত থাকা, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে মোবাইল বা কিবোর্ড ব্যবহার কমানো জরুরি। রাতে স্পিøন্ট ব্যবহার করলে আঙুল সোজা থাকে এবং জড়তা কমে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী ওষুধও সেবন করা যেতে পারে। ফিজিওথেরাপি এই রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর; এতে টেনডন গ্লাইডিং ও স্ট্রেচিং এক্সারসাইজের মাধ্যমে আঙুলের নমনীয়তা বাড়ানো হয়, ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে টেনডনের ঘর্ষণ কমানো হয় এবং আল্ট্রাসাউন্ড, লেজার বা প্যারাফিন ওয়্যাক্স থেরাপির সাহায্যে প্রদাহ ও ফোলা কমানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন প্রয়োগ করলে এক বা দুই ডোজেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি পাওয়া যায়। তবে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে, আঙুল পুরোপুরি লক হয়ে গেলে বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সবশেষে বলা যায়, আঙুলে যে কোনো ধরনের ব্যথা বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণই দ্রুত সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

লেখক : বাতব্যথা, প্যারালাইসিস, স্পোর্টস ইনজুরি ও

ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

Advertisements

চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর (পল্লবী), ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/o6l7
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন