যদি চোখ চুলকায় তা হলে যা করবেন

- Advertisements -
ডা. সৈয়দ এ. কে. আজাদ: চোখ চুলকানো একটি সাধারণ, কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওকুলার প্রুরিটাস নামে পরিচিত। সাধারণত কোনো অ্যালার্জেন বা উত্তেজক পদার্থের সংস্পর্শে এলে শরীরে হিস্টামিন নামের রাসায়নিক বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এর ফলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে যায় এবং চোখে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া ও লালভাব দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সর্দি, হাঁচি, গলা বসে যাওয়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া কিংবা চোখের পৃষ্ঠের ঝিল্লিতে প্রদাহও থাকতে পারে।

চোখ চুলকানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অ্যালার্জি। ধুলাবালু, পরাগরেণু, ছত্রাক, পশুর লোম বা কিছু নির্দিষ্ট চোখের ড্রপ অ্যালার্জির উদ্রেক করতে পারে। চোখের চারপাশে ডার্মাটাইটিস হলেও চুলকানি দেখা যায়। এ ছাড়া ড্রাই আই সিনড্রোম বা শুষ্ক চোখও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ অবস্থায় ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি পর্যাপ্ত অশ্রু উৎপাদন করতে না পারায় চোখের পৃষ্ঠ শুষ্ক হয়ে যায় এবং অস্বস্তি ও চুলকানি তৈরি হয়। কখনও মেকআপ, ধোঁয়া বা সুইমিং পুলের ক্লোরিনের মতো রাসায়নিক পদার্থ চোখে প্রবেশ করলেও একই সমস্যা হতে পারে।

আবার ব্লেফারাইটিসের মতো অবস্থায় চোখের পাতায় সংক্রমণজনিত প্রদাহ হলে চুলকানি দেখা দেয়। কিছু ওষুধ, যেমন- অ্যান্টিহিস্টামিন, কিছু পেইনকিলার, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কখনও কখনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চোখ শুষ্ক করে এবং চুলকানির কারণ হতে পারে।

চোখ চুলকানির সঠিক চিকিৎসার জন্য কারণ নির্ণয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে চোখের পাতা, কর্নিয়া ও কনজাংকটিভা (চোখের স্বচ্ছ ঝিল্লি), চোখের নড়াচড়া, আলোতে পিউপিলের প্রতিক্রিয়া এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। কারণভেদে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। যদি চোখে কোনো বাহ্যিক কণা বা রাসায়নিক ঢুকে যায়, তবে পরিষ্কার পানি বা জীবাণুমুক্ত স্যালাইন দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া উচিত। ঠান্ডা ভেজা কাপড় বা আইস প্যাক বন্ধ চোখের ওপর কিছুক্ষণ রাখলে আরাম পাওয়া যায়। তবে চোখ কখনোই রগড়ানো উচিত নয়, কারণ এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

Advertisements

অ্যালার্জিজনিত চুলকানির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি আই ড্রপ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় কৃত্রিম অশ্রু বা লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার করে চোখের শুষ্কতা কমানো হয় এবং অ্যালার্জেন ধুয়ে ফেলা যায়। শুষ্ক চোখের সমস্যায় ঘরের পরিবেশ আর্দ্র রাখা উপকারী; প্রয়োজনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে বা ঘরে পানিভর্তি পাত্র রাখা যেতে পারে। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ কমে না যায়, চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া, আলো সহ্য করতে অসুবিধা বা ঘন পুঁজের মতো স্রাব দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

লেখক : অধ্যাপক এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

Advertisements

সাবেক বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

চেম্বার : আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/6f1a
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন