কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ উপায়

- Advertisements -

বর্তমানে অনেক রোগী কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় অনেক বেশি ভুগে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু সহজ উপায় জানিয়েছেন বিআরবি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শিরিনা স্মৃতি।

তিনি বলেন, বিশেষ করে বিভিন্ন রোগের কারণে এ সমস্যা বাড়ে। যেমন- হতে পারে কিডনি সমস্যায়। কিডনি সমস্যার বেশিরভাগ রোগীই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগে। অনেক সময় দেখা যায় গর্ভবতীর সময় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতাটা চলে আসে। অনেকের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার কারণে তাদের ছোট থেকে বা বংশানুক্রমে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতা থাকে।

শিরিনা স্মৃতি বলেন, এ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান করার জন্য লাইফস্টাইল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যার মধ্যে আছে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম। রাতের ঘুম সম্পূর্ণ  হলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতাটা অনেক কমে যায়।

এছাড়া পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও জরুরি। যারা পানি কম খায় তাদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বেশি থাকে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত হাঁটাহাটি আর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। যারা হাঁটাহাটি কম করে বা ব্যায়াম কম করে তাদের মধ্যেও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতা বেশি থাকে।

Advertisements

এ পুষ্টিবিদ বলেন, যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি তাদের জন্য। প্রতিবার খাওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট করে হাঁটা ভালো। প্রতিদিনই দুই ঘণ্টার মত ব্যায়াম করা বা হাটাহাটি করা বা সাঁতার কাটা ভালো। রাতের ঘুম সম্পূর্ণ করা ভালো। রাত ১০-১১ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যেতে হবে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। নূন্যতম আড়াই থেকে তিন লিটার পানি খেতে হবে যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে।

তিনি বলেন, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল যে ট্র্যাকটা থাকে, সেখানে খাবারগুলো আস্তে আস্তে যদি পাস হয় বৃহদন্ত্রে, তখন সেই বৃহদন্ত্রের যে কোষগুলো থাকে সেটা স্বাভাবিকভাবে পানি টানতে থাকে। যত দেরিতে পাস হবে তার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতা তত বাড়বে। যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে টকদই ও গাজনকৃত যে কোনো খাবার। যেমন- শুটকি, আচার কিংবা পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং ফলমূল।

শিরিনা স্মৃতি বলেন, শাকসবজি বা ফাইবার জাতীয় খাবারগুলো স্বাভাবিকভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খুবই সাহায্য করে থাকে। ফাইবার জাতীয় খাবারের মধ্যে শাকসবজি তো আছেই। পাশাপাশি তুকমার দানা, চিয়া সিড বা ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটু লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ইসবগুলের ভুসি বা চিয়া সিড অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে উলটো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণতা বাড়তে পারে।

Advertisements

ইসবগুলের ভুসি ভিজিয়ে না রেখে এটা সাথে সাথে খেতে হয়। যেটা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ভালো কাজ করে। দুই থেকে তিন চামচের উপরে না খাওয়াই ভালো। আর পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে এটার পাশাপাশি।

শেষে তিনি বলেন, খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ব্যবহার করতে হবে। তবে এর মধ্যে মসলাদার খাবারগুলো রাখা যাবে না। প্রচুর মসলাযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়। কম মসলায় পাতলা ঝোল করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটাই কমে আসবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/1qi5
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন