শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের এই ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে ভোট জালিয়াতি করতে দেওয়া হবে না। ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। ভোটারদের ভোট প্রদান শেষে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। ২০২৪ সালে তরুণরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাকি বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্সে দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বাঞ্ছারামপুর শীর্ষে রয়েছে অথচ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা। মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে বাঞ্ছারামপুর শিল্প ও বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও বিশ্ববাজারে কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, প্রবীণদের সেবা, নারী নিরাপত্তা ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নৈতিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম মুসা।
এই নির্বাচনি জনসভায় আরও বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক, অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন জিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও জোটের নেতারা।