মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্ক বার্তার পর আরও শক্তভাবে নিজেদের সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে তাইওয়ান।গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে বলা হয়, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীন নয়।
এর আগে শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ২ দিনের সফর শেষ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে তাইওয়ানকে সমর্থন না করার আহ্বান জানান।
ওই সফর থেকে ফেরার পরপরই ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেইয়ার’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক। আর আপনারা তো জানেনই, একটি যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি এমনটা চাই না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। এখন যে অবস্থা আছে, সেটা সেভাবেই রেখে দিলে আমার মনে হয় চীনেরও কোনো আপত্তি থাকবে না।’
তবে ট্রাম্প এ কথাও যোগ করেন যে তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ‘কোনো পরিবর্তন আসেনি’।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই তাইওয়ানকে ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসন আইনগতভাবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে প্রায়ই তাদের এই জোট চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হয়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা ইতিমধ্যেই নিজেদেরকে একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে দেখে।
শনিবার দ্বীপটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কারেন কু বলেন, ‘এটি প্রমাণিত যে তাইওয়ান একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ। তিনি আরও যোগ করেছেন যে তাইওয়ান চীনের সঙ্গে বর্তমান স্থিতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
