বিশ্বকাপ ভ্রমণে অ্যামনেস্টির সতর্কতা

- Advertisements -

আগামী ১১ জুন স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের। সেই হিসেবে আসর শুরু শুরু হতে দুই মাস বাকি রয়েছে।

৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরটি মেক্সিকো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিক এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘বিশ্বকাপ ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচার ও সহিংসতা’ সম্পর্কে দর্শনার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।

সংস্থাগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি এবং ফিফা আয়োজক শহর বা মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তার অভাবে এই সতর্কতা জারি করা জরুরি ছিল।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দর্শনার্থীদের খেয়াল খুশিমতো দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে। ‘অমানবিক’ পরিস্থিতিতে আটক রাখা হতে পারে অথবা তাদের ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর তল্লাশি চালানো হতে পারে। এতে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে আগ্রাসী অভিবাসন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার ফলে জাতিগত বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমনের অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisements

পর্যটন কর্মকর্তারা এই বার্তার নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, গোষ্ঠীগুলো তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টায় পরিষেবা খাতের কর্মীদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।

ইউ.এস. ট্র্যাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জিওফ ফ্রিম্যান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নীতি নিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, গত বছর ৬ কোটি ৭০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

ফ্রিম্যান বলেন, আমেরিকা ভ্রমণ একটি উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে—এই ধারণাটি কোনো সদিচ্ছাপ্রণোদিত সতর্কবার্তা নয়, এটি অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত একটি রাজনৈতিক কৌশল।

ফিফার একজন মুখপাত্র ফেডারেশনের পরিচালনা সংক্রান্ত নথিপত্রসহ বেশ কিছু বিবৃতি ও নীতির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ফিফা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকারকে সম্মান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অধিকারগুলোর সুরক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য সচেষ্ট থাকবে।

গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানানো, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ন্যাটোর উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কথা বলে মার্কিন মিত্রদের অসন্তুষ্ট করেছেন।

পর্যটন শিল্প বিশ্বকাপের পর্যটকদের কাছ থেকে একটি বড় ধরনের উন্নতির আশা করছে, যদিও ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

Advertisements

বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই আশা এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে খেলাগুলোর টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম এবং হোটেল পরিচালকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাসগুলোতে তাদের হোটেলের কক্ষ ব্যবহারের হারে কোনো উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

এছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করার প্রচেষ্টা এবং টুর্নামেন্টকে ঘিরে উত্তেজনা, ট্রাম্পের অভিবাসন-সংক্রান্ত বার্তা বিশ্বকাপের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ বিশ্ব ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করছে—এই উদ্বেগকে ছাপিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, কানাডায় দুটি এবং মেক্সিকোতে তিনটি স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/6ts7
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন