লাওসের একটি পাহাড়ি গুহায় আকস্মিক বন্যার কারণে আটকে পড়া সাতজনের মধ্যে আরও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই ও লাওসের উদ্ধারকারী দল। তবে এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় সাইসোম্বুন প্রদেশের ওই গুহায় গত বুধবার একদল গ্রামবাসী স্বর্ণের খোঁজে প্রবেশ করেন। কিন্তু হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিলে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা ভেতরে আটকা পড়েন।
পরে উদ্ধার অভিযান শুরু হলে প্রথমে একজন গুহা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বুধবার পাঁচজনকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়।
থাই উদ্ধারকারী কেনংকাচ ব্যাংকাওং সামাজিকমাধ্যমে জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধারকারীরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে পাঁচজনকে জীবিত অবস্থায় পান। একই তথ্য নিশ্চিত করে লাওসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
লাওসের উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রেসকিউ ভলান্টিয়ার ফর পিপল’ জানিয়েছে, উদ্ধার ব্যক্তিরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে বাকি দুজনকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, গুহাটির ভেতরের অংশ অত্যন্ত সরু ও জটিল, কিছু অংশ মাত্র ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া। প্রায় ৩৪০ মিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ সুড়ঙ্গ অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। অনেক জায়গায় হামাগুড়ি দিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলো জানায়, গুহার ভেতরে পানির উচ্চতা ও সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এলাকাটি স্বর্ণ ও খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত হওয়ায় স্থানীয়রা প্রায়ই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গুহায় প্রবেশ করেন। এবারও স্বর্ণের খোঁজে প্রবেশ করেই তারা বিপদে পড়েন।
উল্লেখ্য, লাওসের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের একটি গুহায় ২০১৮ সালে কিশোর ফুটবল দলের আটকে পড়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ থাই ডুবুরিরাও এবার লাওসের অভিযানে অংশ নিয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
