পুলিশ কর্মকর্তার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, কুমিরের পেট থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার

- Advertisements -

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোমাটি নদীতে রুদ্ধশ্বাস ও বিপদসংকুল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। কুমির অধ্যুষিত উত্তাল নদীতে হেলিকপ্টার থেকে ঝুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি বিশালাকায় কুমিরকে পানি থেকে তুলে আনেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই অভিযানের ভিডিওটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ একটি ছোট দ্বীপে বেশ কিছু কুমিরকে রোদ পোহাতে দেখে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ধারকারী দল লক্ষ্য করে যে, একটি কুমিরের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোন চলাচলের প্রচণ্ড শব্দ সত্ত্বেও সেটি নড়াচড়া করছে না। এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে যে, ৫৯ বছর বয়সী ওই নিখোঁজ ব্যক্তি হয়তো এই সরীসৃপটির শিকারে পরিণত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে প্রবল বন্যার সময় একটি নিচু ব্রিজ পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তার গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় নদীর ধারে পাওয়া গেলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ধারণা করা হচ্ছিল, পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার পর তিনি কুমিরের কবলে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং দেহাবশেষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওই কুমিরটিকে প্রথমে ইনজেকশনের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয়।

Advertisements

পুলিশের ডাইভিং ইউনিটের কমান্ডার ক্যাপ্টেন জোহান ‘পটি’ পটগিটার এই দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ির সাহায্যে নিচে নেমে কুমিরটিকে বেঁধে ফেলেন। এরপর হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাকে এবং কুমিরটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন পটগিটার জানান, একটি কুমিরের একেবারে সামনের দিকে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, তবে কর্তব্য পালনে তিনি পিছপা হননি।

প্রায় ১৫ ফুট লম্বা এবং ১১০০ পাউন্ড ওজনের এই বিশাল কুমিরটিকে পরবর্তীকালে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা কুমিরটির পেট ব্যবচ্ছেদ করলে তার পাকস্থলীর ভেতর থেকে মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত এই দেহাবশেষগুলো নিখোঁজ ব্যবসায়ীর কি না তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এই অভিযানের সময় কুমিরটির পেট থেকে কেবল মানুষের দেহাংশই নয় বরং ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের জুতাও উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন পটগিটার জানান, এটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে কুমিরটি হয়তো আগে আরও মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে কুমির যেকোনো কিছু গিলে ফেলার প্রবণতা রাখে বিধায় জুতা পাওয়া যাওয়া মানেই যে একাধিক মানুষ মারা গেছে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Advertisements

পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেন ডিম্পানে ক্যাপ্টেন পটগিটারের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ক্যাপ্টেন যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা পুলিশ বাহিনীর জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বর্তমানে পুরো এলাকাটিতে বন্যার ঝুঁকি থাকায় এবং কুমিরের উপদ্রব বাড়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার এখন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/38c8
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন