অভিষেককে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল, দাবি মমতার

- Advertisements -

পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, সময়মতো মাথায় হেলমেট পরিয়ে না দেওয়া হলে তার ভাতিজা অভিষেক প্রাণ হারাতেও পারতেন। খবর এনডিটভি

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় এবং তার দিকে ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও ক্রিকেট হেলমেট পরা অভিষেককে ঘিরে বিপুল সংখ্যক মানুষ চিৎকার করছে এবং তাকে ধাক্কাধাক্কি করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, হামলায় অভিষেকের বুক ও পাঁজরের অংশে আঘাত লেগেছে এবং তার বুকে রক্ত জমাট বেঁধেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, সংকটময় মুহূর্তে তার মাথায় হেলমেট পরিয়ে না দিলে পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারত।’

হামলার পর ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথার অভিযোগ করলে অভিষেককে প্রথমে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার পর তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মমতা অভিযোগ করেন, প্রথম হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল না।

Advertisements

তিনি বলেন, ‘যদি হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনই না থাকত, তাহলে তাকে কেন আইটিইউতে নেওয়া হয়েছিল, প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল?’

তার দাবি, চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অভিষেকের মুখ, পিঠ, বুক ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ‘উপরমহল’ থেকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন মমতা।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আহত রোগীর চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ভর্তি, ছাড়পত্র বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র চিকিৎসা পেশাজীবীদের নেওয়া উচিত।’

রাজনৈতিক সহিংসতার সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘রাজনীতির মোকাবিলা রাজনীতি দিয়েই হওয়া উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জবাব কখনো সহিংসতা, ভয়ভীতি বা অস্ত্র হতে পারে না।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি বলেন, অভিষেকের সফরের বিষয়ে পুলিশ আগেই অবগত ছিল, তবুও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

বিজেপিকে দায়ী করলেন অভিষেক

হামলার জন্য রাজ্যের সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপিকে দায়ী করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘সবই বিজেপির মদদে হয়েছে। দেখুন তারা কী করেছে। এটাই তাদের গণতন্ত্রের উদাহরণ। এক মাসও হয়নি, অথচ পুলিশকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।’

Advertisements

অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হত্যা করতে চায়।

তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তারাও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, অভিষেকের ওপর হামলা তৃণমূলের জন্য ‘কর্মফল’।

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূল সরকারের আমলে নানা ধরনের নির্যাতন দেখেছে। আজ তারা তারই প্রতিদান পাচ্ছে। কর্মফল কী, জানেন? মানুষ যা করে, শেষ পর্যন্ত তার ফলও পায়।’

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/67mk
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন