ইরান যুদ্ধের দামামায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতিতে এবার বড় ধরনের ধাক্কা আসতে যাচ্ছে বিমান পরিষেবা খাতে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলো। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় ও শিডিউল বাতিলের শঙ্কায় রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ভরা মৌসুমে এই সংকট সাধারণ যাত্রীদের পকেটে বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় দেশটিতে সরাসরি ঘাটতির ঝুঁকি কম থাকলেও বিশ্ববাজারের প্রভাবে সেখানেও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর ফলে ডেল্টা এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাজেটে বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা করছে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে অনেক এয়ারলাইন্স তাদের স্বল্পমূল্যের টিকিট অফার কমিয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানি লোকসান এড়াতে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি যুদ্ধের পরিস্থিতি আজ স্বাভাবিক হলেও জেট ফুয়েলের সরবরাহ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথের প্রায় ২০ শতাংশ জেট ফুয়েল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় একটি অংশ যায় ইউরোপে। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি এখন যুদ্ধের কারণে আটকা পড়ে আছে। এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া যারা জ্বালানি পরিশোধনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে, তারাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল না পাওয়ায় রপ্তানি কমিয়ে দিতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা বা আইএটিএ-এর মতে, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো। স্পিরিট এয়ারলাইন্সের মতো স্বল্পমূল্যের পরিষেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে ছোট ও মাঝারি অনেক এয়ারলাইন্স বাজার থেকে ছিটকে যেতে পারে। আর বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গেলে বড় এয়ারলাইন্সগুলো একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে।
